চার মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে, তারপর স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন! স্বামীর অন্ধকার অতীত জানলে শিউরে উঠবেন

উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর জেলা থেকে এক নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। গত শুক্রবার রাতে নরোরা থানার অন্তর্গত পিলখানা গ্রামে ফাইমুদ্দিন ওরফে আসলাম নামক এক ব্যক্তি তার দ্বিতীয় স্ত্রী খুশবুকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী এলাকা থেকে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ফাইমুদ্দিনের প্রথম স্ত্রী প্রায় আট মাস আগে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর মাত্র চার মাসের মধ্যে মিরাটের লিসাদি গেট এলাকার বাসিন্দা খুশবুকে পুনরায় বিয়ে করেন ফাইমুদ্দিন। বিয়ের মাত্র চার মাস কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় স্ত্রী খুশবুকেও একইভাবে প্রাণ হারাতে হলো। প্রথম পক্ষের সংসারে অভিযুক্তের তিনটি সন্তান রয়েছে। মৃত খুশবুর বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে ছিল।
প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতে ওই গৃহবধূর তীব্র চিৎপাশের আওয়াজ পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। সেই সময় গুরুতর জখম অবস্থায় খুশবুকে ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্টে মহিলার শরীরে একাধিক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন মিলেছে।
এদিকে, এই দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের পরই অভিযুক্ত ফাইমুদ্দিনের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম স্ত্রীকেও একইভাবে পিটিয়ে খুন করার পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় পুলিশের কাছে বড়সড় অভিযোগ না গেলেও, এখন দ্বিতীয় স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু নিয়েও জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বুলন্দশহরের এসএসপি দীনেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক অভিযুক্তকে ধরতে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে।