মর্গে মৃত যুবকের চোখ ‘উধাও’! মমতার গাড়ি থামিয়ে চরম বিক্ষোভ, SIT গঠন স্বাস্থ্য দফতরের

বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর ৩২ বছর বয়সী এক মৃত যুবকের একটি চোখ খুবলে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই চরম গাফিলতির প্রতিবাদে মৃতের পরিবার হাসপাতালের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। ঘটনাক্রমে সেই সময়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় সেখান দিয়ে যাওয়ার সময়, ক্ষুব্ধ পরিজনেরা তাঁর গাড়ি থামিয়ে বিক্ষোভ দেখান।

এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। বারাসত মেডিক্যাল কলেজকেই তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

ঘটনার সূত্রপাত: মর্গে কী হলো?

সোমবার সকালে বারাসতের বামনগাছি এলাকায় পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন স্থানীয় যুবক প্রীতম ঘোষ। তাঁকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর প্রোটোকল মেনে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে দেহ তুলে দিতেই চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রীতমের পরিবার অভিযোগ করে, যুবকের একটি চোখ খুবলে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর প্রাথমিক সূত্রে জানালেও, “ইঁদুরে মৃত যুবকের চোখ খুবলে নিয়েছে” বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ পরিবার।

পথে মুখ্যমন্ত্রী, গাড়ি থামিয়ে বিক্ষোভ

পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনে হাসপাতালের গেটের সামনে শুয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি যখন উত্তাল, ঠিক তখনই ঠাকুরনগর থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কনভয় দেখেই পরিবারের সদস্যরা আরও ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

মুখ্যমন্ত্রী কী বললেন? দিলেন কী আশ্বাস?

বিক্ষোভের মুখে কনভয় থামিয়ে দিতে বাধ্য হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।

  • তদন্তের আশ্বাস: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাড়ির লোক যখন বলছেন, তখন নিশ্চয়ই সত্যতা রয়েছে। নিশ্চয়ই ঘটেছে। ঘটনা যদি ঘটে, তা হলে তদন্ত হবে। দোষীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

  • ভিডিও ও সিসিটিভি: তিনি নির্দেশ দেন, “দেহের ভিডিও তুলে রাখবে, যাতে কেসের তদন্তের সুবিধা হয়। সিসিটিভি ফুটেজও দেখা হবে।”

  • চাকরি ও ক্ষতিপূরণ: তিনি মৃতের পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “এই দুর্ঘটনা মর্মান্তিক। চাকরির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, যাতে মৃতের পরিবারের চলে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কোটায় চাকরি দিচ্ছি। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”

এই মুহূর্তে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা থাকলেও, পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। দোষীদের খুঁজে বের করতে স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।