মমতার হাত ছাড়বেন অনুব্রত? ‘জোড়া ফুল’ যেদিকে, কেষ্টও সেদিকে—দ্ব্যর্থহীন বার্তা!

তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে বিভাজন এখন প্রকাশ্যে। একদিকে দলীয় চেয়ারপার্সনের পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানো এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ‘নব্য তৃণমূল’, যেখানে দলের বহু বিধায়ক ও মমতা-ঘনিষ্ঠ নেতারাও যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সব জল্পনার মাঝে অনুব্রত মণ্ডল নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “জোড়া ফুল প্রতীক যেদিকে থাকবে, আমি সেদিকেই থাকব।” সেই সঙ্গে তাঁর শর্ত, “দলে সম্মান পেলে তবেই থাকব, নাহলে নয়।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অনুব্রতর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব একটা সহজ হবে না।
চ্যালেঞ্জের মুখে কেষ্ট:
অনুব্রতর এই ‘জোড়া ফুল’-এর প্রতি আনুগত্যের ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব সমস্যা:
ঋতব্রতের শিবিরে কাজল শেখ: বীরভূমের বিধায়ক কাজল শেখ, যিনি দীর্ঘকাল ধরে অনুব্রতর বিরোধী হিসেবে পরিচিত, তিনি ইতিমধ্যেই ‘নব্য তৃণমূল’-এ ভিড়েছেন। ফলে ঋতব্রতের নেতৃত্বে থাকা দলে অনুব্রতর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
প্রতীক নিয়ে লড়াই: ঋতব্রতের শিবির এবং মূল তৃণমূল—উভয় পক্ষই নিজেদের ‘আসল’ দাবি করছে। প্রতীক নিয়ে আইনি জটিলতা বা বাস্তব পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে কেষ্টর ভবিষ্যৎ।
অস্তিত্বের লড়াই: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত হিসেবে পরিচিত অনুব্রত শেষ পর্যন্ত তাঁর পাশে থাকবেন, নাকি পরিস্থিতির চাপে নতুন শিবিরের সঙ্গে সমঝোতা করবেন, তা নিয়ে বীরভূমের রাজনীতিতে চলছে নানা সমীকরণ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ:
বাংলার রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডল এক দক্ষ রণকৌশলী হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমানে তৃণমূলের এই ভাঙন ও নতুন কমিটির গঠন তাঁকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে ববি হাকিম বা অরূপ বিশ্বাসের মতো মমতার ঘনিষ্ঠদের নতুন কমিটিতে উপস্থিতি এবং অন্যদিকে বীরভূমের বিধায়কদের ঋতব্রতের শিবিরে চলে যাওয়া—এই দুই স্রোতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অনুব্রত ঠিক কোন চাল দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তবে এ কথা নিশ্চিত যে, ‘গুড়-বাতাসা’ খ্যাত এই নেতার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বীরভূমের তৃণমূল রাজনীতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।