২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে মারাত্মক বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভা থেকে তাঁর করা একটি ‘শব্দ’ নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ, তফশিলি জাতিভুক্ত মানুষদের সম্বোধন করতে গিয়ে তিনি ‘চামার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি তুলেছে বিরোধীরা।
ঠিক কী ঘটেছিল চৌরঙ্গীর মঞ্চে?
এদিন বিকেলে চৌরঙ্গীতে প্রচার সারছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি এবং বিরোধীদের আক্রমণ করার সময় তিনি বেশ কিছু কড়া শব্দ ব্যবহার করেন। সেই ভাষণ চলাকালীনই বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বা কোনো এক বিশেষ প্রসঙ্গে তিনি ‘চামার’ শব্দটি উচ্চারণ করেন।
মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় (যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা ডেইলিয়ান্ট যাচাই করেনি)। বিরোধী শিবিরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এই শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন এবং তাঁদের অপমান করেছেন।
বিরোধীদের চরম আক্রমণ ও তদন্তের দাবি
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সরব হয়েছে বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস শিবির:
বিজেপির তোপ: “মুখ্যমন্ত্রীর এই শব্দচয়ন তাঁর নিচু মানসিকতার পরিচয়। তফশিলি ভাই-বোনদের তিনি কীভাবে এই চোখে দেখেন, তা আজ পরিষ্কার হয়ে গেল।” বিজেপি ইতিমধ্যেই এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে।
বামেদের বক্তব্য: “রাজনীতিতে লড়াই হবে আদর্শ নিয়ে, কিন্তু জাতপাত তুলে আক্রমণ বা অসাংবিধানিক শব্দ ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তদন্তের দাবি: বিভিন্ন দলিত ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই মন্তব্যের জন্য মমতাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন। এমনকি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি উঠছে।
তৃণমূলের আত্মপক্ষ সমর্থন
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর কথাকে বিকৃত করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যের একটি ছোট অংশ কেটে নিয়ে বিজেপি উস্কানিমূলক রাজনীতি করছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজীবন পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য লড়াই করেছেন, তিনি কাউকে ছোট করতে এই কথা বলেননি।”
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তফশিলি ও দলিত ভোটারদের একটি বড় অংশ রয়েছে। ভোটের ঠিক আগে এই বিতর্ক তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।
সম্পাদকের নোট: নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এই খবরটি এখন ডেইলিয়ান্টে ট্রেন্ডিং!





