মমতার প্রতি দুর্বলতা, আবার শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ! রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনায় অনুব্রত

দীর্ঘ বিরতির পর ফের বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব ফিরে পেয়েই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। বোলপুরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল নেত্রীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার পাশাপাশি, বর্তমান রাজ্যের শাসকদল বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন ‘কেষ্ট’।
মমতা ও ঋতব্রত প্রসঙ্গে কী বললেন কেষ্ট? দলের বর্তমান সংকট নিয়ে অনুব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানেন দলটার এই অবস্থা কেন হলো।” ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দিদির প্রতি আমার দুর্বলতা বরাবরই ছিল, এখনও আছে। তাই কেউ ঋতব্রতের দিকে গেলেই তাকে বেইমান বলা যায় না।” মমতার প্রতি এই আনুগত্য প্রকাশ করলেও, তাঁর বক্তব্যকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বর্তমান দূরত্বের জল্পনার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ অনুব্রত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বিজেপির কাজের প্রশংসাও শোনা গেছে অনুব্রতর গলায়। তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এসে স্বাস্থ্যসাথী, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো খারাপ কাজ আমার চোখে পড়েনি।” বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনি এমনি তাকে পাঁচ জেলার অবজারভার করেননি। শুভেন্দু লড়াকু ছেলে, লড়াই করেই রাজনীতি শিখেছে।”
বীরভূমের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিজের প্রত্যাবর্তনের পর বীরভূমের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী অনুব্রত। নাম না করে কাজল শেখের দিকে নিশানা করে তিনি স্পষ্ট জানান, “জেলায় কোনো গ্রুপ নেই। সবাই আমার সঙ্গে আছে। ছুটকো-ছাটকা কেউ সাইডে চলে গেলে তাতে কিছু যায় আসে না।” আগামী ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে বীরভূম থেকে ২৫-৩০ হাজার কর্মী নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
একদা ‘মমতার কেষ্ট’র এই রূপান্তর এবং রাজনৈতিকভাবে দুই মেরুর দুই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে তাঁর এই ভারসাম্যপূর্ণ মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে ভবিষ্যতে কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।