নির্বাচনী ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কঙ্কালসার দশা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। শনিবার দলের বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই বৈঠকে বিধায়কদের হাজিরা দেখে কার্যত মুখ ফিরিয়ে নিলেন নেত্রী। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে উপস্থিত হলেন মাত্র ২০ জন! কোরাম না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৈঠক বাতিল করতে বাধ্য হন তৃণমূল নেত্রী।
কেন এই পরিস্থিতি? ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে অস্থিরতা চরমে। ভোটের হিসেবে তৃণমূল ৪০.৮০ শতাংশ এবং বিজেপি ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট পেলেও, দলের অন্দরে সাংগঠনিক ভিত্তি দ্রুত আলগা হচ্ছে। এরই মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা এবং সুজিত বসুর মতো প্রভাবশালী নেতাদের আইনি জটিলতায় দলের মনোবলে বড় ধাক্কা লেগেছে।
কালীঘাটে কী ঘটল? দলের বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয় ফেরাতে পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। প্রত্যাশা ছিল, নেত্রীর উপস্থিতিতে দলের নতুন রণকৌশল ঠিক হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে দেখা যায়, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে হাজির হয়েছেন মাত্র ২০ জন। এই নগণ্য উপস্থিতি দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর বৈঠকের ঘরে প্রবেশই করেননি। ভেতর থেকেই বৈঠক বাতিলের বার্তা পাঠিয়ে দেন তিনি।
কারা ছিলেন উপস্থিত? কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত থাকা নেতাদের তালিকায় ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র প্রমুখ। তবে বিধায়কদের এমন বিশাল অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কী বলছে তৃণমূল? ঘটনার পর মুখ খুলেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, “বৈঠক বাতিল নয়, আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার পর অনেক বিধায়কই বৈঠকের দিন পরিবর্তনের আর্জি জানিয়েছিলেন।” তিনি আরও জানান, সোমবার দলের পক্ষ থেকে ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।
কিন্তু দলের অন্দরে যেভাবে বিদ্রোহের সুর এবং নেতাদের গা ছাড়া মনোভাব দেখা যাচ্ছে, তাতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ছে? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে।





