মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’ প্রভাবশালী পুলিশকর্তা এবার ইডির জালে! ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর নাটকীয় গ্রেফতারি

বঙ্গ রাজনীতিতে ফের একবার ইডির বড় ধামাকা। দীর্ঘ টালবাহানা এবং একাধিকবার সমন এড়ানোর পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুলিশের অত্যন্ত প্রভাবশালী ডেপুটি কমিশনার (DCP) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার রাতে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত এই পুলিশকর্তার গ্রেফতারি ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, কুখ্যাত জমি মাফিয়া এবং তোলাবাজ ‘সোনা পাপ্পু’র সঙ্গে যোগসূত্র এবং কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে শান্তনুর বিরুদ্ধে। এর আগে তাঁর বালিগঞ্জের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি ও ডিজিটাল তথ্য হাতে পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, জেরা চলাকালীন শান্তনু তদন্তে কোনো রকম সহযোগিতা করেননি এবং বহু প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। তাঁর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির উৎস নিয়েও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি বলেই ইডি সূত্রে দাবি।

এই হাই-ভোল্টেজ গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে সুর চড়িয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, “আইন আইনের পথে চলছে। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছেন, তাদের ছাড় পাওয়ার কোনো জায়গা নেই। পুলিশ প্রশাসনের একাংশ যেভাবে প্রভাবশালী তকমা লাগিয়ে কাজ করছিল, এটা তারই পরিণতি।”

তবে কেবল দুর্নীতি নয়, সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। শুক্রবার সকালেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কলকাতায় পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটারে ১০৮.৭৪ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.১৩ টাকা। শান্তনুর গ্রেফতারির পাশাপাশি জ্বালানির এই সাঁড়াশি আক্রমণ নিয়ে আমজনতার মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিরোধীরা দাবি করছেন, একদিকে দুর্নীতির তদন্তে পুলিশের বড় কর্তাদের নাম জড়াচ্ছে, অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে শুক্রবারই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে চাইবে ইডি। এখন দেখার, এই গ্রেফতারির জল আরও কতদূর গড়ায়।