“তালিকায় নাম থাকলেই কি সসম্মানে ফেরা?” ঘরছাড়াদের নিয়ে বিধানসভায় শুভেন্দুর চরম হুঁশিয়ারি!

অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই রাজনীতির চেনা উত্তাপ এবং প্রশাসনিক সংঘাতের এক অনন্য ছবি ধরা পড়ল। শুক্রবার একদিকে যেমন শাসকদলের মনোনীত প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হলেন, অন্যদিকে তেমনই ভোট পরবর্তী হিংসা ও ‘ঘরছাড়া’ ইস্যুতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিধানসভা কক্ষ। বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগের পালটা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে কড়া অবস্থান নিলেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

এদিন সকালেই স্পিকার পদে রথীন্দ্রনাথ বোসের নাম সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। বিরোধীরা কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সৌজন্য বজায় রেখে সকলকে ধন্যবাদ জানান। তবে এই সৌজন্যের বাতাবরণ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত এবং ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির ‘অত্যাচারে’ বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অথচ আইনি ঢঙে জবাব দেন। তিনি সরাসরি বিরোধী দলনেতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় কেউ ঘরছাড়া বলে আমার জানা নেই। তবে আপনি যদি দাবি করেন, তবে অবিলম্বে সেই ঘরছাড়াদের নামের তালিকা রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কাছে পেশ করুন।” এর পরেই তিনি একটি কঠোর শর্ত বেঁধে দেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যদি ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় যুক্ত থাকার কোনো এফআইআর (FIR) বা অভিযোগ থাকে, তবে তাদের ঘরে ফেরানো হবে না; বরং তাদের জায়গা হবে জেলে। পুলিশ তাদের সরাসরি গ্রেফতার করবে।”

তবে তিনি এও আশ্বস্ত করেন যে, যদি দেখা যায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি রাজনৈতিক কারণে ঘরছাড়া হয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, তবে সরকার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে ফেরাবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক এবং পুলিশ সুপার (SP) নিজে গিয়ে তাঁদের সসম্মানে ঘরে পৌঁছে দেবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী অবস্থানে একদিকে যেমন ঘরছাড়াদের ফেরার পথ প্রশস্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, তেমনই অভিযুক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। বিধানসভার এই অধিবেশন ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy