দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতির ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে আজ মহাযুদ্ধের দামামা। নিজের খাসতালুকে এবার খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর চ্যালেঞ্জের মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার জাঁকজমকপূর্ণ রোড শো শেষে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন শুভেন্দু। আর তাঁর হাত শক্ত করতে দিল্লি থেকে উড়ে এলেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শাহের ‘শর্টকাট’ ফর্মুলা: ১ আসনেই হবে পরিবর্তন!
এদিন হাজরা মোড় থেকে বিশাল রোড শো-এর পর হুডখোলা গাড়ি থেকেই হুঙ্কার ছাড়েন অমিত শাহ। ভবানীপুরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন:
“গোটা রাজ্যে পরিবর্তনের জন্য আমাদের ১৭০টি আসন জিততে হবে। কিন্তু আমার কাছে একটা ‘শর্টকাট’ আছে। ভবানীপুরবাসী যদি এই একটি আসনে শুভেন্দু অধিকারীকে জেতান, তবে রাজ্যে পরিবর্তন নিজে থেকেই হয়ে যাবে।”
“মমতার ঘরে ঢুকে হারাতে হবে”
শুভেন্দুকে কেন ভবানীপুরে দাঁড় করানো হলো, তার নেপথ্যের কাহিনীও শোনান শাহ। তিনি জানান, শুভেন্দু শুধু নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু শাহের নির্দেশ ছিল, “শুধু নন্দীগ্রাম নয়, মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে।” গতবার নন্দীগ্রামে মমতাকে হারানোর রেকর্ড মনে করিয়ে দিয়ে শাহ দাবি করেন, এবার মমতা গোটা রাজ্যে তো হারবেনই, ভবানীপুরেও হারবেন।
শুভেন্দুর মনোনয়নে কেন্দ্রীয় হেভিওয়েটরা
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর মনোনয়ন পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিচ্ছে এই লড়াইকে বিজেপি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। সূত্রের খবর, শুভেন্দুর সমর্থনে প্রচার করতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ভবানীপুরে আসতে পারেন।
একদিকে যখন ৪০ হাজার ভোটার বাতিলের অভিযোগে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই অমিত শাহকে পাশে নিয়ে শুভেন্দুর এই মনোনয়ন পেশ রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় তুঙ্গে তুলে দিল। আজ বিকেলেই দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা শাহের, তবে যাওয়ার আগে তিনি স্পষ্ট করে দিয়ে গেলেন— আগামী ১৫ দিন তিনি পশ্চিমবঙ্গেই ডেরা বাঁধবেন।





