সাতজন বিচারবিভাগীয় অফিসারকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও, ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সামনেই গাড়ি ভাঙচুর— বুধবার রাত থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মালদার কালিয়াচক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁদের দাবি, এই ঘটনা স্রেফ বিশৃঙ্খলা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর চক্রান্ত।
‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারত’, বিস্ফোরক সুকান্ত
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “যা হয়েছে তা অত্যন্ত ভয়ংকর। ৭ জন বিচারবিভাগীয় অফিসারকে আটকে রেখে তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটদের গাড়িও রেয়াত করা হয়নি।”
তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বাম আমলের কুখ্যাত স্মৃতি উসকে দিয়ে বলেন:
“বামফ্রন্ট আমলে অফিসার অনিতা দেবীকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছিল। কালিয়াচকেও একই ধরণের ছক ছিল। এই সবেরই মূলে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক উস্কানি।”
দিলীপের নিশানায় ‘অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ’
প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূলের মদত ও সীমান্ত সমস্যাকে দায়ী করেছেন। তাঁর কথায়, “কালিয়াচকে এর আগেও থানায় আগুন দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সীমান্ত কাছে হওয়ায় এখান দিয়েই অনুপ্রবেশকারীরা ঢোকে। তৃণমূলের প্রশ্রয়ে এখানে অসামাজিক ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ চলছে। এভাবে চললে সেখানে স্বচ্ছ নির্বাচন করা অসম্ভব।”
ঠিক কী ঘটেছিল কালিয়াচকে?
বুধবার বিকেল থেকে কালিয়াচকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। যার জেরে আটকে পড়েন ৭ জন বিচারবিভাগীয় অফিসার।
উদ্ধার অভিযান: মাঝরাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে রাত ১২টা নাগাদ অফিসারদের উদ্ধার করে।
হামলার অভিযোগ: অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ যখন কনভয় করে অফিসারদের নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
পাল্টা অভিযোগ: গ্রামবাসীদের দাবি, পুলিশ অকারণে লাঠিচার্জ করেছে। এমনকি কনভয়ের গাড়ি একজনের পায়ের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে অবরোধ উঠলেও কালিয়াচক থমথমে। মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিচারব্যবস্থার আধিকারিকদের ওপর এই নজিরবিহীন হামলা এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।





