মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক ময়দানে এবার ব্যক্তিগত আক্রমণের পারদ চড়ল কয়েক গুণ। ডোমকলের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন প্রদেশ কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, পুলিশ সুপার থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সুপারি’ নিয়ে তাঁকে শেষ করে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করেছিলেন হুমায়ুন।
“জেলে গিয়ে খুনিদের প্রলোভন দিতেন হুমায়ুন!”
অধীর চৌধুরীর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তিনি দাবি করেছেন, হুমায়ুন কবীর যখন মুর্শিদাবাদে কর্মরত ছিলেন, তখন তিনি জেলের কয়েদিদের প্রলোভন দেখাতেন। অধীরের ভাষায়, “জেলে গিয়ে খুনিদের বলতেন— তোমাদের জেল থেকে বের করে দেব, শুধু অধীর চৌধুরীকে খুন করতে হবে! এই কাজের পুরস্কার হিসেবেই তাঁকে মেদিনীপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল।” অধীরের আরও দাবি, মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গঠন করার নেপথ্যে মূল কারিগর ছিলেন এই প্রাক্তন পুলিশ অফিসারই।
পাল্টা ‘প্রাণহানির’ আশঙ্কা তৃণমূল প্রার্থীর
অন্যদিকে, ডোমকলের তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীর এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বরং উল্টে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। বর্তমান পুলিশ সুপারের কাছে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, “পুলিশ সুপার থাকাকালীন আমি বড় বড় মার্ডার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছিলাম। সেই অপরাধীদের মাথারাই এখন আমার ওপর হামলা করতে পারে।”
“পানির কেসের জনক!” অধীরের তীব্র কটাক্ষ
হুমায়ুনের নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়টিকে স্রেফ ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অধীর চৌধুরী। তিনি প্রাক্তন এই পুলিশকর্তাকে ‘নটোরিয়াস’ (কুখ্যাত) এবং ‘পানি কেসের জনক’ বলে অভিহিত করেছেন। অধীর বলেন, “উনি অত্যন্ত খতরনাক অফিসার ছিলেন। প্রচুর পরিবারের ক্ষতি করেছেন, অনেককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। এখন সেই পাপের ফলেই মার খাওয়ার ভয় পাচ্ছেন।”