ভোট পরবর্তী বাংলায় এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়— ‘স্ট্রং রুম’। ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগ যখন রাজ্য রাজনীতিতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের প্রতিক্রিয়া এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হট টপিক।
সূত্রের খবর, স্ট্রং রুমে কারচুপির আশঙ্কা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে যখন সাংবাদিকরা সিইও-র মুখোমুখি হন, তখন তিনি অভিযোগের ধরন শুনেই এক চিলতে হেসে ফেলেন। সেই হাসির রেশ টেনেই তিনি এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কী বললেন সিইও মনোজ আগরওয়াল? অভিযোগের গুরুত্ব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সিইও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশন প্রতিটি স্ট্রং রুমের নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি রাখেনি। সিসিটিভি নজরদারি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েক স্তরের বেষ্টনী—সবটাই নিয়ম মেনে চলছে। তাঁর সেই তাৎপর্যপূর্ণ হাসি কি শাসক দলের আশঙ্কাকে নিছক ‘ভিত্তিহীন’ বলার কোনো ইঙ্গিত? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ অন্তত তেমনটাই মনে করছেন।
তৃণমূলের অভিযোগ ও কমিশনের অবস্থান: মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ তুলেছে যে, কিছু জায়গায় স্ট্রং রুমের সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা অননুমোদিত ব্যক্তি সেখানে ঘোরাফেরা করছেন। তবে সিইও-র হাসি এবং তাঁর আত্মবিশ্বাসী বার্তা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, কমিশন নিজের অবস্থানে অনড়। মনোজ আগরওয়াল পরোক্ষভাবে এও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই এবং প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ।
ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাচন আধিকারিকের এই হাসি কি বিরোধীদের পালে হাওয়া দেবে? নাকি তৃণমূলের আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করবে? ৪ মে-র চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে এই ‘হাসি’ এখন বাংলার রাজনীতির নতুন মোড়।





