তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে দলত্যাগের হিড়িক এবং বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন যাবতীয় জল্পনায় ইতি টানলেন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। বৃহস্পতিবার এক একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রবীণ এই নেতা সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন এবং থাকবেন।
বিদ্রোহী তালিকায় নাম নিয়ে কী বললেন শত্রুঘ্ন? বিদ্রোহী নেতাদের দাবি ছিল, এনডিএ-র প্রতি আনুগত্য জানিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে যে ১৯ জন সাংসদ চিঠি দিয়েছেন, তার মধ্যে শত্রুঘ্ন সিনহাও রয়েছেন। এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে অভিনেতা-সাংসদ বলেন, “আমি এমন কোনো চিঠিতে সই করিনি। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেননি। আমি তৃণমূলের সঙ্গেই আছি।” তবে তাঁর সংযোজন, “দলীয় নেতৃত্বের ভুল নিয়ে সত্য কথা বলা যদি বিদ্রোহ হয়, তবে আমি বিদ্রোহী। কিন্তু এই গোষ্ঠীর সঙ্গে আমার নাম জড়ানো উচিত নয়।”
মমতার প্রতি কেন অবিচল আনুগত্য? সাংসদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “২০১৯ সালে কঠিন সময়ে যখন আমি বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি আমাকে আসানসোল থেকে লড়ার সুযোগ দিয়েছেন। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ আমার আছে। তাঁর কঠিন সময়ে আমি তাঁকে ছেড়ে যেতে পারি না।”
অভিষেক প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য: দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে যখন অনেকের আপত্তি শোনা যাচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বলেন, “দলে মমতাই আমার একমাত্র নেত্রী। আমি অন্য কাউকে এই ভূমিকায় স্বীকার করি না। আমার যোগাযোগ ও নির্দেশ আদান-প্রদান সবসময় মমতা দি-র সঙ্গেই হয়। ওই অবস্থানে আমি অন্য কাউকে চিনি না।”
ভবিষ্যৎ কী? তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ এই ভাঙন নিয়ে তিনি বলেন, “কেউ হয়তো ভয়, চাপ বা প্রলোভনের বশে এমনটা করছেন। আবার কারও মনে হতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা কাজ করতে পারবেন না।” তবে দল বিলীন বা কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে কোনো আলোচনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, মমতা ও রাহুল গান্ধীর মধ্যে সহযোগিতা দেশের গণতন্ত্র ও বিরোধী শিবিরের জন্য কল্যাণকর হতে পারে।
রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে শত্রুঘ্ন সিনহার এই স্পষ্ট অবস্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবিরের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





