মন্দিরে কীর্তন গেয়েও মিলল না নিস্তার! স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নৃশংসভাবে খুন করে রাজস্থান থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত!

জয়পুর শহরের করধানি এলাকায় ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অবশেষে মর্মান্তিক ও নাটকীয় পরিণতি ঘটাল রাজস্থান পুলিশ। স্ত্রী ও তিন তরুণী কন্যাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার পর গা ঢাকা দেওয়া অভিযুক্ত রাহুল ঝাঁকে সিকার জেলার রিঙ্গাস শহর থেকে এক অভিযানের মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এবং পরকীয়া সংক্রান্ত জটিলতার জেরে এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধৃত রাহুল ঝাঁ তাঁর স্ত্রী গীতা (৪০), বড় মেয়ে নন্দিনী (২৩), মেজো মেয়ে রাধিকা (১৭) এবং ছোট মেয়ে গৌরীকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। এই নৃশংস ঘটনার পরই সে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরিবারের চার সদস্যকে খুন করার পর অপরাধবোধ বা অনুশোচনার বশে সে প্রথমে স্থানীয় একটি রাধা গোবিন্দ মন্দিরে গিয়ে নাম সংকীর্তনে যোগ দেয় এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমার প্রার্থনা জানায়। এরপর সে পালিয়ে প্রথমে জয়পুরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আশ্রয় নেয়। তবে সেখানে থাকার মতো পর্যাপ্ত টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় সে বাধ্য হয়ে সিকার জেলার একটি অপেক্ষাকৃত কম খরচের সাধারণ হোটেল বা সরাইখানায় গিয়ে ওঠে।
যদিও সে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পুলিশের নজর এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু তার সচল মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ নিয়মিত তার গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল। শেষ পর্যন্ত সিকারের ‘রিঙ্গাস-ইন’ হোটেলের বাইরে পুলিশ এসে পৌঁছানোর বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই রাহুল মুখ রুমালে ঢেকে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; সতর্ক পুলিশ বাহিনী হোটেলের বাইরে থেকেই তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। রাজস্থান পুলিশ এই গ্রেপ্তারকে তাদের একটি বড় সাফল্য বলে দাবি করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে পারিবারিক অশান্তি এবং দাম্পত্য কলহের জেরে অপরাধের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (NCRB) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ, পরকীয়া সম্পর্ক এবং মানসিক অবসাদের জেরে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সমাজে ক্রমশ এক বিরাট ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তের বাড়ির সামনে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখেই তারা প্রথম জোরালো সূত্র পান। পুলিশ বর্তমানে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে একটানা জেরা করছে এবং এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো বড় চক্রান্ত বা অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।