অভিষেকের পিএ-র বাড়িতে সিআইডির হানা! কালীঘাটের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে কী উদ্ধার করলেন তদন্তকারীরা?

শালবনির বিতর্কিত জমি জালিয়াতি মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। সিআইডির জালে বন্দি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়। আর এবার ধৃত সুমিতকে সরাসরি সঙ্গে নিয়েই মঙ্গলবার কালীঘাট রোডে তাঁর বাড়িতে হানা দিল সিআইডির একটি বিশেষ দল। সঙ্গে ছিল কালীঘাট থানার পুলিশও। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে সুমিতের স্ত্রীর কাছ থেকে তাঁর সেই বহুমূল্য মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা, যা এই মামলার অন্যতম বড় ‘মাস্টারকি’ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, শালবনিতে কয়েকশো একর সরকারি জমির চরিত্র বদলে জাল নথি তৈরি করে তা বিক্রির অভিযোগে আগেই সুমিত রায়কে গ্রেফতার করেছিল সিআইডি। কিন্তু পুলিশি জেরার মুখে ও গ্রেফতারির সময় তিনি নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সঙ্গে রাখেননি। সেটি তাঁর কালীঘাট রোডের বাড়িতে স্ত্রীর কাছে রেখে এসেছিলেন বলে জানতে পারেন গোয়েন্দারা। সেই সূত্র ধরেই এদিন বিকেল নাগাদ ১১৯ নম্বর কালীঘাট রোডের বাড়িতে সটান পৌঁছে যান সিআইডির আধিকারিকরা।
বাড়ির প্রতিটি কোণে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে সুমিতের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপর পটুয়াপাড়ার ওই বাড়ি থেকে ধৃত সুমিতকে সোজা ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ভবানী ভবনে। ঘটনার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে তীব্র তরজা।
শাসক দলের অন্দরে এই ঘটনা নিয়ে নানা মত শোনা গেলেও বিরোধীরা ইতিমধ্যেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এ বিষয়ে তৃণমূল বিধায়ক ও কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান বলেন, “সিআইডি নিয়ে গেছে, না সুমিত রায় নিয়ে গেছে দেখুন সেটা। কিন্তু সত্য উদঘাটনের স্বার্থে সিআইডি হোক বা সুমিত—তদন্তের জন্য এটার প্রয়োজন আছে। বাংলার মানুষ জানতে চায়, ওই বাড়ি থেকে এমন কত দুর্নীতি হয়েছে।”
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলার এই তদন্তে সুমিতের মোবাইল ফোনটি কতটা নতুন তথ্য উন্মোচন করে এবং এর জেরে আগামী দিনে কাদের নাম জালে জড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।