“দেবের বাড়িতে সুকান্ত মজুমদার”-হলুদ পাঞ্জাবিতে কোন বিশেষ বার্তা দিলেন দুই নেতা?

প্রতি বছরের মতো এবারও অভিনেতা-সাংসদ দেবের বাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত হয়েছে গণপতি আরাধনা। আর দেবের এই দুর্গোৎসব বা গণেশ পুজো মানেই তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সরব উপস্থিতি। তবে এবার পুজোর দ্বিতীয় দিনে দেবের আরবানার ফ্ল্যাটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি ডক্টর সুকান্ত মজুমদারের আগমন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র কৌতূহল ও জল্পনা।

পঞ্জাবি পরে একে অপরের পাশে বসে ছবি তোলা এবং দেবের বাবা গুরুপদ অধিকারীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি রাজনৈতিক সীমানা পেরিয়ে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে?

সুকান্ত-দেব সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন

রাজ্যের পালাবদলের পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এমন ঘরোয়া আতিথেয়তা ও মেলামেশা সচরাচর দেখা যায় না। স্বাভাবিকভাবেই দেব ও সুকান্ত মজুমদারের এই সাক্ষাতের পর রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেবের সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে?

তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দেবের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সুকান্ত মজুমদার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই সাক্ষাতের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি খোঁজা একেবারেই ঠিক হবে না।

পুরনো সম্পর্কের কথা মনে করালেন সুকান্ত

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার স্মরণ করিয়ে দেন তাঁদের বহু পুরনো সম্পর্কের কথা। তিনি জানান, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেব যখন তৃণমূলের স্টার প্রচারক হিসেবে তাঁর নিজের লোকসভা কেন্দ্রে প্রচারে গিয়েছিলেন, তখনও জনসমক্ষে দেব অকপটে তাঁদের সুসম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। দেব সেদিন মঞ্চ থেকে বলেছিলেন, ভালো মানুষ যিনিই হোন না কেন, তাঁর জয় হওয়া উচিত। দেবের সেই উদার মানসিকতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসাই করেন সুকান্ত।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও স্পষ্ট জানান, দেবের আমন্ত্রণে ওঁর বাড়িতে তিনি এসেছিলেন। ঘাটালের সাংসদ দেব তাঁর ছোট ভাইয়ের মতো, আর তিনি দেবের দাদা বা বন্ধুর মতো। বয়সে একটু বড় হওয়ার সুবাদে এই সম্পর্ককে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের বেড়াজালে না বেঁধে নিছক সৌহার্দ্যপূর্ণ হিসেবেই দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

পুজোর পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতির আলোচনা

সোমবার দেবের বাড়িতে নিষ্ঠাভরে গণেশ পুজোর সূচনা হয়েছিল। আর মঙ্গলবার পুজোর দ্বিতীয় দিনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুকান্ত মজুমদার শুধু বাপ্পার আরাধনাই করেননি, পাশাপাশি দেবের বাবা গুরুপদ অধিকারীর সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। আড্ডার ফাঁসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁর আসন্ন নাটক ‘কেশরী হত্যা?’ নিয়েও আলোচনা করেন, যেখানে তাঁকে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে তারকা সাংসদের বাড়িতে দুই বিপরীত শিবিরের এই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ও খোলামেলা আড্ডা এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের হটকেক।