‘মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী জেলে গেলে পদ যাবে না কেন?’-নতুন বিল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

‘সরকারি কর্মীরা জেলে গেলে যদি চাকরি যায়, তাহলে মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীরা জেলে গেলে কেন তাঁদের পদ যাবে না?’— এই প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার বিহারের গয়ায় একটি জনসভায় তিনি বলেন, জেলের ভেতর থেকে ফাইল সই করার এই ব্যবস্থা চলতে পারে না।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় তিনটি নতুন বিল পেশ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল, যা নিয়ে সারা দেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এই বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী:

  • যদি কোনো মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো অপরাধে গ্রেফতার হন যার শাস্তি ৫ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড, তাহলে টানা ৩০ দিন জেলে থাকার পর তাঁকে পদ থেকে সরে যেতে হবে
  • গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই এই নিয়ম কার্যকর হবে।
  • কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের সব মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং এমনকি প্রধানমন্ত্রীও এই নিয়মের আওতায় থাকবেন।

বিরোধীদের সমালোচনা

এই বিলের তীব্র সমালোচনা করছেন বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এই আইনটি দেশের গণতন্ত্র এবং রাজ্য সরকারগুলোর স্থায়িত্ব নষ্ট করবে।

  • কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, এই আইন অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা হবে।
  • পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিলের কঠোর নিন্দা করে বলেছেন, এটি শুধু গণতন্ত্র নয়, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপরও আঘাত। তিনি এটিকে ‘অতিজরুরি অবস্থা’র চেয়েও ভয়ংকর বলে অভিহিত করেছেন।

বিরোধীদের মতে, এই আইনটি কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর একটি কৌশল।