মনসুনের মতিগতি বদলাচ্ছে! এল নিনোর মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী; রাজ্যগুলিকে বিশেষ সতর্কবার্তা

দেশজুড়ে বর্ষার খামখেয়ালি রূপ এবং ‘এল নিনো’ (El Niño)-র প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ রণকৌশল তৈরি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত সমস্ত বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে চলতি বছরে বর্ষার ধরনে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা, যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতির পথে হাঁটছে।

বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু: সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর এই ক্যাবিনেট বৈঠকে এল নিনোর প্রভাবে সম্ভাব্য খরা, অতিবৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক তাপমাত্রার মতো সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে আলাদাভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী যে বিষয়গুলোতে জোর দিয়েছেন:

  • রাজ্য-কেন্দ্র সমন্বয়: এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় রাজ্য সরকারগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

  • বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো: প্রবল গরম বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ পরিষেবার বিঘ্ন ঘটা এড়াতে কেবল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • জল সংরক্ষণ: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্ষার এই অনিয়মিত প্যাটার্ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জল সংরক্ষণের (Water Conservation) ওপর প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে জোর দিয়েছেন।

  • ইউরোপের উদাহরণ: জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এবং সেই অনুযায়ী ভারতের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছেন।

প্রস্তুতির গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রীর মতে, এল নিনো কেবল কৃষিজাত উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলে না, বরং এটি সার্বিক জনজীবন ও জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই দুর্যোগের অপেক্ষায় না থেকে প্রতিকারের পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকেই কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে কৃষি থেকে বিদ্যুৎ—প্রতিটি ক্ষেত্রে যাতে মানুষের কোনো অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।