“মদ রাখলে চাকনাও রাখবেন!” চুরি করতে গিয়ে হতাশ চোর, গৃহকর্তাকে নীতিবাক্য শুনিয়ে চিঠি লিখল চোর বাবাজি

চোর মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে এক ক্রুর অপরাধীর চেহারা। কিন্তু সাম্প্রতিক এক চুরির ঘটনায় যা ঘটল, তাতে পুলিশ প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ— সবারই পেটে খিল ধরার জোগাড়। এক গৃহকর্তার বাড়িতে চুরি করতে ঢুকে স্রেফ মদের বোতল পেয়ে এতটাই হতাশ হলেন চোর বাবাজি যে, পালানোর আগে মালিকের উদ্দেশে রীতিমতো একটা ‘অভিযোগপত্র’ লিখে রেখে গেলেন!

কী ঘটেছিল? ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের একটি আবাসন এলাকায় (যদিও এমন ঘটনা ইদানীং হামেশাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে)। গত বুধবার রাতে এক ব্যক্তি বাড়ি ফাঁকা রেখে বাইরে গিয়েছিলেন। পরদিন সকালে ফিরে এসে তিনি দেখেন ঘরের তালা ভাঙা এবং জিনিসপত্র তছনছ হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আলমারিতে থাকা সোনা-দানা বা নগদ টাকার দিকে চোর খুব একটা নজর দেয়নি, কারণ সেখানে কিছুই ছিল না।

চোরের সেই অকালপক্ব চিঠি: গৃহকর্তা যখন পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য টেবিলের ওপর ফোন খুঁজছিলেন, তখন তাঁর নজরে আসে একটা হাতে লেখা কাগজ। সেখানে ভাঙা ভাঙা অক্ষরে যা লেখা ছিল, তা পড়ে পুলিশও হাসি চেপে রাখতে পারেনি। চিঠিতে লেখা ছিল:

“ভাই, যদি বাড়িতে মদ রাখো, তবে তার সাথে একটু ‘চাকনা’ (স্ন্যাকস) রাখাও শিখতে হয়। অনেক কষ্ট করে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকলাম, কিন্তু তোমার আলমারি তো গড়ের মাঠ! পকেটে স্রেফ কয়েকটা টাকা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এমন কৃপণ হলে বাড়ি চুরি করতে আসার কোনো মানে হয় না!”

নেটপাড়ায় হাসির রোল: এই চিঠির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ লিখেছেন, “চোরটা কি তবে শিক্ষিত বেকার?” আবার কেউ বলছেন, “হতাশা যে কেবল চাকুরিজীবীদের থাকে না, তা প্রমাণ হয়ে গেল!” অনেকে আবার গৃহকর্তার উদ্দেশে রসিকতা করে লিখেছেন, “পরের বার চোরের জন্য অন্তত কিছু বিস্কুট বা মুড়ি রেখে দেবেন!”

পুলিশি পদক্ষেপ: পুলিশ সচরাচর এমন ‘রসিক’ চোরের দেখা পায় না। চুরির অভিযোগে মামলা রুজু করা হলেও, চোরের রেখে যাওয়া ওই চিঠিটিকেই এখন সবথেকে বড় সূত্র হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। হাতের লেখা মিলিয়ে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই ‘হতাশ’ চোরকে ধরার চেষ্টা চলছে।

চোর ধরা পড়ুক বা না পড়ুক, ওই চিরকুটটি যে পাড়া-পড়শির কাছে গৃহকর্তার মুখ পুড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য!

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy