জাতিগত হিংসার আগ্নেয়গিরিতে ফের ফুটছে মণিপুর। এক জনহিতৈষী বিধায়কের মৃত্যু এবং দুই শিশুর ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে বুধবার কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেল রাজ্যের ১৬টি জেলার মধ্যে ১২টি জেলা। কোথাও ১৩ ঘণ্টা, কোথাও ৩ দিন, আবার কোথাও ৫ দিনের দীর্ঘ বনধের ডাকে মণিপুরে এখন চরম অচলাবস্থা।
চুরাচাঁদপুর: বিধায়ক ওয়ালতের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি
২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে হিংসা শুরুর প্রথম দিকে বিজেপি বিধায়ক ভুংজাগিন ওয়ালতে এক ভয়াবহ হামলার শিকার হন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ফেব্রুয়ারিতে গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই জনপ্রিয় নেতার মৃত্যুর বিচার চেয়ে ‘জোমি সমন্বয় কমিটি’ বুধবার চুরাচাঁদপুরে ১৩ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করে। বিধায়কের অনুগামীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দোষীদের আজও শাস্তি দেওয়া হয়নি।
উপত্যকায় শিশুদের রক্তের দাম চাইছে জেএসি
অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর জেলায় দুই শিশুর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় ফেটে পড়েছে জনতা। জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (JAC)-র ডাকা ৫ দিনের বনধের প্রভাবে ইম্ফল উপত্যকার ৫টি জেলা আজ অচল। ইম্ফল পশ্চিমের সাগোলবন্দ ও পাতসোইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। যান চলাচল বন্ধ থাকায় কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
নাগা-অধ্যুষিত এলাকাতেও অবরোধের আগুন
পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল। গত ১৮ এপ্রিল উখরুল জেলায় দুই নাগা যুবককে হত্যার প্রতিবাদে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (UNC) ৩ দিনের পূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। বুধবার ছিল সেই ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন। ননি জেলা এবং পূর্ব ইম্ফলের ইয়াংগাংপোকপিতে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর (Central Forces) যাতায়াতও বিঘ্নিত হচ্ছে।
উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরের জাতিগত হিংসার জেরে এখনও পর্যন্ত ৫৮,৮০০ জনেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। রাজ্যের বর্তমান অচলবস্থা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, শান্তি ফিরতে এখনও অনেকটা সময় বাকি।
এক নজরে বর্তমান চিত্র:
চুরাচাঁদপুর: বিধায়ক ওয়ালতে খুনের প্রতিবাদে ১৩ ঘণ্টার বনধ।
বিষ্ণুপুর ও ইম্ফল: বোমা হামলায় শিশু মৃত্যুর প্রতিবাদে ৫ দিনের বনধ।
নাগা জেলাগুলি: দুই যুবক খুনের দায়ে ৩ দিনের পূর্ণ ধর্মঘট।
প্রভাব: ১২টি জেলায় সাধারণ জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।





