মঙ্গলবার (৮ জুলাই, ২০২৫) সকালে তামিলনাড়ুর কুড্ডালোর জেলার সেম্মানকুপ্পামে একটি মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন স্কুলছাত্র নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
SIPCOT শিল্প এলাকার কাছে রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং গেট নম্বর ১৭০-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি বেসরকারি CBSE স্কুলের ভ্যান ভিল্লুপুরম-ময়িলাদুথুরাই এক্সপ্রেস ট্রেন দ্বারা ধাক্কা খায় যখন এটি রেললাইন পার হচ্ছিল। গেট নম্বর ১৭০ একটি নন-ইন্টারলকড গেট। দুর্ঘটনার সময় ভ্যানে চালকসহ পাঁচজন ছাত্র ছিল। ট্রেনটি ভ্যানটিকে প্রায় ৫০ মিটার টেনে নিয়ে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই দুই ছাত্রের মৃত্যু হয় এবং পরে আরও এক ছাত্র হাসপাতালে মারা যায়।
আহত ও উদ্ধারকার্য
আহতদের মধ্যে ভ্যানচালক শঙ্কর (৪৭), স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকার্যে অংশ নেওয়া অন্নাদুরাই (৫৫), এবং ছাত্র চেঝিয়ান (১৫) ও বিষ্বেশ্বর (১৬) রয়েছেন। আহতদের দ্রুত কুড্ডালোর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্ত ও অভিযোগ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গেটম্যান গেট বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু চালক জোর করে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন যে গেটকিপার ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এবং গেট বন্ধ করেননি। ক্ষুব্ধ জনতা গেটকিপারকে মারধর করে। রেল বিভাগ গেটকিপারকে অবহেলার দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
রেল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণ
দুর্ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষ মেডিকেল রিলিফ ভ্যানসহ একটি রিলিফ ট্রেন পাঠিয়েছে। DRM-সহ ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। রেল সেফটি, অপারেশন ও ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার একটি কমিটি এই ঘটনার তদন্ত করছে।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন নিহতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা এবং হালকা আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন। বিরোধী নেতা এডাপ্পাদি কে. পলানিস্বামীও মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং রাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও দ্রুত চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।