গরমের ছুটিতে বা লং উইকেন্ডে যাঁরা থাইল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তাঁদের জন্য এল এক দুঃসংবাদ। এতদিন ভারতীয় পর্যটকদের জন্য যে ৬০ দিনের ‘ভিসা-মুক্ত’ (Visa-Free) সুবিধা চালু ছিল, তা এবার প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করার পথে হাঁটছে থাইল্যান্ড সরকার। পর্যটন খাতে আয় বাড়াতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এই নতুন নিয়ম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কী কী বদল এল ভিসা নিয়মে? থাইল্যান্ড সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, পর্যটকদের ভিড় সামলাতে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে:
সময়সীমা হ্রাস: এতদিন ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো ভিসা ছাড়াই থাইল্যান্ডে থাকা যেত, সেই সময়সীমা কমিয়ে নতুন নিয়ম অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রেই তা ৩০ দিন বা তার কম করা হয়েছে।
অন অ্যারাইভাল ভিসা: যেসব ক্ষেত্রে ভিসা-মুক্ত সুবিধা তুলে নেওয়া হয়েছে, সেখানে পর্যটকদের ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ (Visa on Arrival) প্রক্রিয়ার জন্য আগে থেকেই ফি ও নথি জমা দেওয়ার পদ্ধতি কঠোর করা হয়েছে।
আর্থিক প্রমাণ: কিছু ক্ষেত্রে ভ্রমণের সময় পর্যটকদের পর্যাপ্ত আর্থিক সঙ্গতির প্রমাণ এবং ফেরার বিমানের টিকিট (Return Ticket) দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভ্রমণপিপাসুদের জন্য পরামর্শ: থাইল্যান্ড ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: ১. অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন: টিকিট বুক করার আগে থাইল্যান্ডের ভারতীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বর্তমান নিয়মের লেটেস্ট আপডেট চেক করে নিন। ২. ভিসা প্রসেসিং: যদি আপনার সফরের সময়সীমা নতুন নিয়মের চেয়ে বেশি হয়, তবে আগেই ই-ভিসা (E-Visa) করিয়ে নেওয়া শ্রেয়। ৩. নথি প্রস্তুত রাখুন: হোটেলের বুকিং ডিটেইলস এবং ফেরার টিকিট সব সময় সাথে রাখুন, কারণ বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে কড়াকড়ি বাড়ছে।
পর্যটন শিল্পের একাংশের মতে, এই নিয়ম পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় পর্যটকদের সংখ্যায় সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে, তবে থাইল্যান্ড প্রশাসন তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার খাতিরেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
আপনার কি থাইল্যান্ড ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে? এই নতুন নিয়মের ফলে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনায় কি কোনো পরিবর্তন আনতে হচ্ছে?





