ভ্যাকসিন দিতে গিয়ে শিশুকে চুমু! ভাইরাল পেডিয়াট্রিশিয়ানকে নিয়ে তুমুল বিতর্ক, তোলপাড় নেটদুনিয়া

শিশু-বান্ধব ‘গারবা মেথড’-এর জন্য একসময় রাতারাতি অনলাইন সেনসেশন হয়ে উঠেছিলেন ড. ইমরান প্যাটেল। ভ্যাকসিন দেওয়ার সময় শিশুদের ভয় কাটাতে তাঁর গান ও গল্প বলার কোমল কৌশল প্রশংসিত হয়েছিল সব মহলে। কিন্তু যে স্টাইল তাঁকে খ্যাতির চূড়ায় তুলেছিল, আজ সেটাই বিতর্কের ঘূর্ণিঝড় তুলেছে নেটদুনিয়ায়। শিশুদের মন ভোলানো এই পেডিয়াট্রিশিয়ানের ‘চুমু খাওয়া ও স্পর্শের’ কৌশল নিয়ে এবার তুমুল শোরগোল।
নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, ড. প্যাটেল ভ্যাকসিন দেওয়ার সময় শিশুকে কোলে নিচ্ছেন, এমনকি তার গালে ও পায়ে সরাসরি চুমু খাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, তিনি গ্লাভস বা মাস্ক কোনও স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রোটোকলই মানছেন না। শুধু তাই নয়, ইনজেকশন দেওয়ার পর ব্যবহৃত সিরিঞ্জটি তিনি যত্রতত্র ছুঁড়ে ফেলছেন, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই দৃশ্য সামনে আসার পর থেকেই ডাক্তার, অভিভাবক ও নেটিজেন—সব মহল থেকেই চরম সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এআইআইএমএস-দিল্লির চিকিৎসক ড. শৌর্য গর্গ সিরিঞ্জ ছোড়া এবং বাচ্চাকে চুমু খাওয়ার মতো কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ভারতীয় সংস্কৃতিতে বাবা-মা ও চিকিৎসকের ক্ষেত্রে এই স্পর্শ কিছুটা ‘গ্রহণযোগ্য’ মনে হতে পারে, কিন্তু এটি কোনও স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস নয়।” তিনি এই কৌশলটিকে ‘গারবা মেথড’ (ডিস্ট্র্যাকশন টেকনিক) হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নিয়মের বাইরে।
অন্য এক প্রবীণ চিকিৎসক জানান, “সিরিঞ্জ ছুড়ে ফেলা বা গালে চুমু—এগুলি কোনও স্বীকৃত পদ্ধতি নয়। এত নাটকীয়তার প্রয়োজন নেই। ইনজেকশনের সময় শিশুরা এক মিনিট কান্না করলেই সব ঠিক হয়ে যায়, এতে অযথা বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে।”
কয়েকজন অভিভাবক সরাসরি তাঁদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। একজন অভিভাবকের বক্তব্য, “ডাক্তার হলেও আমার বাচ্চাকে কোনও পুরুষ চুমু খাবে—এটা মেনে নেব না। ভ্যাকসিন দিতে গিয়ে এমন নাটক করার চেয়ে সোজাসাপ্টা কাজ শেষ করাই ভালো।”
তবে সমালোচনার মাঝেও কয়েকজন আংশিকভাবে ড. প্যাটেলকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, “স্পর্শ আর চুমুর অংশ বাদ দিলে, বাকিটা তাঁর নিজস্ব স্টাইল এবং এটাকে মার্কেটিং বা প্যারেন্ট-এনগেজমেন্টের কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এই পর্যায়ে এটাই হয়তো তাঁর অভিভাবকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির পদ্ধতি।” তবে বিতর্ক যাই হোক না কেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন করে সিরিঞ্জ ছোঁড়ার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।