পাঞ্জাবে অপরাধের গ্রাফ যেন ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। বুধবার ভোরে মানসা জেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল এলাকা। সবজি বাজারে যাওয়ার পথে অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত যুবকের নাম রাজদীপ সিং (২৯), যিনি জেলার বুধলাদা সবজি বাজারে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
কী ঘটেছিল? বুধবার ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ রাজদীপ সিং প্রতিদিনের মতোই স্কুটারে করে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। দরিয়াপুর খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা এই যুবককে রাস্তায় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করে। দুষ্কৃতীরা প্রথমে তাঁকে স্কুটার থেকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে ফেলা হয়। শরীরের অন্যান্য অংশেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলেই রাজদীপের মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া: রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। নিহতের মা জসবীর কৌর জানিয়েছেন, তাঁর ছেলেকে হত্যার পেছনে প্রতিবেশী কয়েকজনের হাত রয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। রাজদীপ বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর দুই শিশু সন্তান রয়েছে। শোকাতুর পরিবার দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পুলিশের তদন্ত: ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত অপরাধীদের জালে আনা হবে।
পাঞ্জাবে সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতি ও খুনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তার অভাববোধ প্রকট হচ্ছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।





