ভোট মিটলেও ঘুম নেই চোখে, ইভিএম আগলাতে অভিনব দাওয়াই! দুর্গাপুরে চরম উত্তেজনায় তৃণমূলের ‘পাচন’ হুঙ্কার

ভোট শেষ, কিন্তু লড়াই যেন এখনও বাকি। ইভিএম বন্দি হয়ে গিয়েছে ভাগ্য, আর সেই ভাগ্য রক্ষায় এবার দুর্গাপুরের রাস্তায় রাত জাগছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। তবে এই পাহারায় রয়েছে এক অভিনব ছোঁয়া। বীরভূমের সেই পরিচিত ‘গুড়-বাতাসা’ আর ‘পাচন’ তত্ত্ব এবার দুর্গাপুরেও।

দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়— যেখানে পূর্ব, পশ্চিম ও পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার ভোটগণনা হবে, সেখান থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে তাঁবু খাটিয়ে পাহারা দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির। চড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমকে উপেক্ষা করে চলছে পালা করে নজরদারি। আর এই দীর্ঘ পাহারার ক্লান্তি মেটাতে কর্মীদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে গুড় আর বাতাসা।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতেই এই ব্যবস্থা। তবে শুধু কি শরীর ঠান্ডা রাখা? তৃণমূলের ২ নম্বর ব্লকের যুব সভাপতি অজয় দেবনাথের গলায় শোনা গেল আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি সরাসরি জানালেন, “গরমে শরীর ঠিক রাখতে অনুব্রত মণ্ডলের গুড়-বাতাসা খাচ্ছি এবং কর্মীদের খাওয়াচ্ছি। তবে আসল খেলা হবে ৪ তারিখ। সেদিন পাচন তৈরি আছে, বিরোধীদের সেই দাওয়াই দেব।”

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচন অন্য সব বারের চেয়ে আলাদা। নজিরবিহীন নিরাপত্তা আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় রেকর্ড ভোট পড়েছে। পরিসংখ্যন বলছে, প্রথম দফায় ৯৩.১৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ৯২.৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ইতিহাস।

এখন সেই বিপুল পরিমাণ ভোট বন্দি হয়ে আছে স্ট্রংরুমের অন্ধকারে। আর বাইরে পাহারায় বসে আছেন কর্মীরা। মাঝেমধ্যে প্রার্থীরাও এসে ঢুঁ মেরে যাচ্ছেন তাঁবুতে, চাঙ্গা করছেন কর্মীদের মনোবল। একদিকে যখন ইভিএম-এ কড়া পাহারা দিচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসন, অন্যদিকে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তৃণমূল।

সোমবার গণনা। সেদিন সকালেই স্ট্রংরুম থেকে বের করা হবে ইভিএম। তার আগেই দুর্গাপুরের এই গুড়-বাতাসা আর পাচনের দাওয়াই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু করেছে। এখন দেখার, ৪ তারিখের পর সেই ‘পাচন’ কার কপালে জোটে!

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy