লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটপর্ব শেষ হতেই ফের চেনা ছন্দে ফিরছে পর্যটন নগরী দিঘা। টানা তিনদিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে মে মাসের শুরুতেই পর্যটকদের ঢল নামতে চলেছে সমুদ্রসৈকতে। দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে এবার লক্ষ্মীলাভের আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে মৎস্যজীবীরা। একদিকে ছুটির আমেজ, আর অন্যদিকে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী— সব মিলিয়ে উৎসবের মেজাজ পূর্ব মেদিনীপুরের এই পর্যটন কেন্দ্রে।
১ মে থেকেই শুরু পর্যটকদের দৌড়
ভোটের কারণে গত কয়েকদিন দিঘায় পর্যটকদের আনাগোনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে কার্যত জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছিল ওল্ড ও নিউ দিঘা। তবে বুধবার ভোট মিটতেই ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে। শুক্রবার ১ মে (শ্রমিক দিবস) সরকারি ছুটি, তার সঙ্গে শনি ও রবিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় পর্যটকদের কাছে এটি একটি ‘লং উইকেন্ড’। দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ইতিমধ্যেই অধিকাংশ হোটেলের বুকিং শেষ হয়ে গিয়েছে।
ভক্তি ও নৃত্যের মেলায় সাজল জগন্নাথ মন্দির
ছুটির মরসুমের শুরুতেই বাড়তি পাওনা দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল সকাল থেকেই মন্দিরে মঙ্গলারতি ও ১০৮টি তীর্থক্ষেত্রের জল দিয়ে বিগ্রহের অভিষেক করা হয়। দেবতাকে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদনের পাশাপাশি সন্ধ্যায় আয়োজিত হয়েছে ইসকনের বিদেশি ভক্তদের নামসংকীর্তন এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যের আসর। মন্দির চত্বরকে রঙিন আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে এবং ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি
ভোটের ধাক্কায় গত ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত দিঘা কার্যত পর্যটকশূন্য ছিল। ২৪ তারিখ নিষেধাজ্ঞা উঠলেও ভিড় তেমন জমেনি। দিঘার ব্যবসায়ীদের মতে, শুক্রবার থেকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। হোটেল মালিকদের দাবি, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দিঘা তার চেনা রূপ ফিরে পাবে। বিশেষ করে ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পর্যটকদের চাপ আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
সমুদ্রের নোনা হাওয়া আর জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ নিতে তাই তৈরি পর্যটকরা। আপনিও যদি এই ৩ দিনের ছুটিতে দিঘা যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে আগেভাগেই হোটেল বুকিং সেরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।





