ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে এবার মারমুখী নির্বাচন কমিশন! ওসির পদ খোয়ানোর হুঁশিয়ারি জ্ঞানেশ কুমারের।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলার যে রক্তক্ষয়ী ছবি দেখেছিল গোটা দেশ, তার পুনরাবৃত্তি আর কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এবার ভোট পরবর্তী হিংসা দমনে কোমর বেঁধে নামলেন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, যদি কোথাও অশান্তির আঁচ পাওয়া যায় বা পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-দের সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে নেওয়া হবে আরও কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ।

একুশের অভিজ্ঞতাই কি হাতিয়ার? ২০২১ সালের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক হিংসার ভূরি ভূরি অভিযোগ এসেছিল। প্রাণহানি থেকে শুরু করে বাড়িঘর ভাঙচুর— সেই স্মৃতি এখনও দগদগে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবার সেই পূর্ব অভিজ্ঞতাকেই ঢাল করছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ভোটের দিন যেমন কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় থাকবে, ফল ঘোষণার পরবর্তী কয়েক দিনও একইভাবে কড়া নজরদারি চলবে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তার জন্য আগাম তথ্য তলব করেছেন তিনি।

রিপোর্ট তলব এবং হুঁশিয়ারি ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছ থেকে গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সংঘর্ষের খতিয়ান চেয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। বিশেষ করে যে সমস্ত থানার বিরুদ্ধে অতীতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল, সেই ওসি-রা এখন কমিশনের আতসকাঁচের নিচে। জ্ঞানেশ কুমারের কড়া বার্তা— “শান্তি বজায় রাখা পুলিশের প্রাথমিক দায়িত্ব। যদি দেখা যায় কোনও ওসি অশান্তি রুখতে ব্যর্থ হয়েছেন বা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন, তবে তড়িঘড়ি তাদের বদলি করা হবে।”

প্রশাসনের তৎপরতা কমিশনের এই হুঁশিয়ারির পর নড়েচড়ে বসেছে নবান্ন ও লালবাজার। প্রতিটি জেলার পুলিশ বাহিনীকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে এবং ভোটের পরেও যাতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় থাকে, তার জন্য একগুচ্ছ গাইডলাইন জারি করতে চলেছে কমিশন। এখন দেখার, জ্ঞানেশ কুমারের এই কড়া দাওয়াই বাংলার ভোট পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy