ভোট দিতে গেলেই কি সামনে আসবে চিতাবাঘ? জলপাইগুড়ির বুথে এখন ‘হাতি-আতঙ্ক’!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল) দোরগোড়ায়। কিন্তু জলপাইগুড়ি ও ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ চা বাগান ও জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় রাজনীতির উত্তাপ ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার— সবার মনেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এক প্রশ্ন: বুথে গিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরা যাবে তো?

বুথের চারপাশেই ঘুরছে চিতাবাঘ ও হাতি

জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি, মেটেলি ও মালবাজার ব্লকের বেশ কিছু বুথ গভীর জঙ্গল বা চা বাগানের ভেতরে অবস্থিত। বন দফতর সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে লাটাগুড়ি ও নাগরাকাটা সংলগ্ন এলাকায় হাতির উপদ্রব বেড়েছে। এমনকি লাটাগুড়িতে দলীয় পতাকার পাশেই দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গিয়েছে পূর্ণবয়স্ক দাঁতালকে। অন্যদিকে, চা বাগান ঘেরা বুথগুলোতে রয়েছে চিতাবাঘের (Leopard) চোরাগোপ্তা হামলার ভয়।

ভোট কর্মীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা

নির্বাচন কমিশনের জন্য এই এলাকাগুলোতে নির্বিঘ্নে ভোট করানো এখন অগ্নিপরীক্ষা। জঙ্গলপথ দিয়ে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় বন দফতরের বিশেষ স্কোয়াড এবং কুনকি হাতি মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

  • টর্চ ও সাইরেন: প্রতিটি সেক্টর অফিসারকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টর্চ ও পটকা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • বিশেষ রুট ম্যাপ: যে রাস্তাগুলোতে হাতির আনাগোনা বেশি, সেই রাস্তা এড়িয়ে বিকল্প পথে বুথে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে উদ্যোগ

জঙ্গল বস্তি ও চা বাগানের শ্রমিকদের দাবি, বুথের রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং বনকর্মীদের টহল না থাকলে তারা ভোট দিতে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, ভোটের দিন বুথের নিরাপত্তা কেবল কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, বনকর্মীরাও সুনিশ্চিত করবেন।

এক নজরে চ্যালেঞ্জগুলো:

  • হাতির করিডোর: ভোটের লাইনে দাঁড়ানো মানুষের ওপর বুনো হাতির হামলা আটকানো।

  • সন্ধ্যা নামার আগেই কাজ শেষ: জঙ্গলের ভেতরের বুথগুলোতে অন্ধকার হওয়ার আগেই ভোট প্রক্রিয়া শেষ করে কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনা।

  • লেপার্ড অ্যাটাক: চা বাগানের নালা বা ঝোপে লুকিয়ে থাকা চিতাবাঘের নজর থেকে পোলিং এজেন্টদের রক্ষা করা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy