‘ভোট চুরি’ মন্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক, CEC জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ভাবনা বিরোধীদের

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থা বা অপসারণ প্রস্তাব আনার কথা ভাবছে বেশ কয়েকটি বিরোধী দল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ এবং বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এই পদক্ষেপের কথা উঠে এসেছে।

এই বিষয় নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন জানান, দলের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, যদি প্রয়োজন হয় এবং নিয়ম অনুসারে, কংগ্রেস এমন একটি প্রস্তাব আনতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট জানায়, ‘ভোট চুরির’ মতো মিথ্যা অভিযোগ তাদের বা ভোটারদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কমিশন নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, “এই ধরনের অভিযোগ কমিশনকে বা ভোটারদের ভীত করতে পারবে না। আমাদের কাজ হল রাজনীতিবিদদের প্রভাবমুক্ত থেকে সকল ভোটারের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।”

তবে, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কারণে কোটি কোটি যোগ্য ভোটার নথিভুক্ত হতে পারবেন না। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১ আগস্ট থেকে এবং শেষ হবে ১ সেপ্টেম্বর। এখন পর্যন্ত ২৮,৩৭০ জন ভোটার তাদের দাবি ও আপত্তি দাখিল করেছেন বলে কমিশন জানিয়েছে।

এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টও হস্তক্ষেপ করেছে। আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, বিহারের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া প্রায় ৬৫ লক্ষ নামের সম্পূর্ণ বিবরণ এবং বাদ দেওয়ার কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কমিশন আদালতকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা এই নির্দেশ পালন করবে।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে এই বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।