‘ভোট চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেননি!’ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মেগা বৈঠকের পর বিস্ফোরক দাবি রাহুল গান্ধীর!

দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতি এবং বিতর্কিত ‘স্পেশ্যাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দরবারে হাজির হয়েছিল বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ১৬টি বিরোধী দলের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চার দফা স্মারকলিপি রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনের আলোচনায় রীতিমতো ‘অবাক’ হয়েছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমি সত্যি অত্যন্ত অবাক ও স্তম্ভিত। আমি আশা করেছিলাম ভারতের রাষ্ট্রপতি অন্তত বলবেন যে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও অবাধ, আর তিনি ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নাকচ করবেন। কিন্তু তিনি আমাদের তোলা কোনও অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি বা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করার চেষ্টা করেননি। বরং তিনি আমাদের বক্তব্য শান্তভাবে শুনে ‘ভোট চুরি’র সমস্ত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও নথি তাঁর কাছে জমা দিতে বলেছেন।” অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাষ্ট্রপতির ইতিবাচক মনোভাবের কথা উল্লেখ করে জানান যে, রাষ্ট্রপতি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠকের সময় রাজধানীর কর্তব্যপথেও বিক্ষোভ ও ইস্তফার দাবিতে রাজনৈতিক পারদ চড়েছিল।
বিরোধী সূত্রে জানা গেছে, ইভিএম বাতিল করে ফের ব্যালট পেপারে নির্বাচন ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবিও জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মিলে দেশের গণতন্ত্রকে পঙ্গু করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন বিরোধী নেতারা। তবে রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রেস বিবৃতি বা মন্তব্য জারি করা হয়নি।
এদিকে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধীদের বৈঠক এবং রাহুল গান্ধীর এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস ও ‘ইন্ডি’ জোট তাদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতিকেও রাজনীতিতে টেনে এনে কালিমালিপ্ত করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো দেশের সাংবিধানিক কাঠামোগুলোর ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা। আজ রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা যে ধরনের রাজনৈতিক বয়ান দিয়েছেন, তা দেশের সর্বোচ্চ পদের গরিমাকে চরমভাবে অপমান করেছে এবং সমস্ত শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছে।” সবমিলিয়ে, এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাত্কারকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ।