ভারতের ক্ষেত্রে নীতিশিক্ষা, নিজের বেলায় ছাড়! রাশিয়া থেকে ডিজেল কিনে ট্রাম্পের মোড়লগিরি কেন?

বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির মঞ্চে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির চরম দ্বিমুখী অবস্থান এবার প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে যে নীতিকে ‘অপরাধ’ বলে ১০০ শতাংশ ট্যারিফ বা শুল্ক চাপানোর হুঙ্কার দেওয়া হয়, নিজের দেশের স্বার্থ বা নির্বাচনী সুবিধা পেতে সেই নীতিকেই অবলীলায় বাস্তবায়ন করছেন ট্রাম্প। ভারতের মতো দেশকে রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধের জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়ার পর, এবার খোদ আমেরিকা রাশিয়ার থেকে লক্ষ লক্ষ টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত বিশ্ব কূটনীতি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে চলা গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়া থেকে তিন লাখ টন এবং পরবর্তীতে আরও ৩০ লাখ টন অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি এই প্রক্রিয়াকে সুগম করতে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রুশ জ্বালানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। আমেরিকায় জ্বালানির দাম লিটার প্রতি আকাশছোঁয়া হওয়া এবং দেশের ৭৮ শতাংশ ভোটার মুদ্রাস্ফীতির জন্য ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করায়, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প একপ্রকার বাধ্য হয়েই রাশিয়ার শরণাপন্ন হয়েছেন।
ট্রাম্পের এই অনৈতিক পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভোলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘ভ্লাদিমির পুতিনকে জন্মদিনের উপহার দেওয়া’র সমতুল্য বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির এমন দ্বিমুখী চরিত্রের শিকার কেবল জ্বালানি ক্ষেত্র নয়। আন্তর্জাতিক নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) ওপর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রমাণ করলেন যে, তাঁদের নীতি কেবল নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা ও কায়েমী স্বার্থ রক্ষা করতেই পরিবর্তিত হয়।