আইবিসি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় ধাক্কা! ইডির জালে দিল্লির সাধনা গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার গুপ্ত

(IBC) প্রক্রিয়ায় চাঞ্চল্যকর আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগে দিল্লির প্রভাবশালী মিডিয়া ও ব্রডকাস্টিং কোম্পানি ‘সাধনা গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার গুপ্তকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শুক্রবার রাতে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর কঠোর বিধানের আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর ৬৩ বছর বয়সি রাজেশ গুপ্তকে শুক্রবার মধ্যরাতে পাতিয়ালা হাউজ কোর্টের অতিরিক্ত সেশন জজ সৌরভ প্রতাপ সিং লালের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের আবাসিক কার্যালয়ে পেশ করা হয়। ইডির তরፍ থেকে সাত দিনের হেফাজতের আবেদন জানানো হলেও, আদালত উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের জন্য ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (EOW) কর্তৃক দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। ইডির অভিযোগ, সাধনা মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড (SMPL)-কে দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা করেছিলেন রাজেশ গুপ্ত। এই কারসাজির মাধ্যমে ঋণদাতাদের কমিটিতে তাঁর ঘনিষ্ঠদের হাতে ৯৯.৪১০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রাখা হয় এবং এর ফলস্বরূপ আয়কর বিভাগের ১১০.১০ কোটি টাকার বকেয়া মাত্র ২০ লাখ টাকায় নিষ্পত্তি করা হয়। পাশাপাশি, কোম্পানি পুনর্বিক্রির সময় ক্রিপ্টোকারেন্সি ও হাওলার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কয়েক কোটি টাকা পেমেন্ট করানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI) গত মে মাসে এক নির্দেশিকায় রাজেশ গুপ্তকে সাধনা ব্রডকাস্টের শেয়ার কারসাজির মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ও যৌথভাবে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার জন্য দায়ী করেছিল। সবমিলিয়ে এই গোটা কেলেঙ্কারিতে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি। যদিও আসামীর আইনজীবীরা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে জানান যে, সেবি ও আয়কর বিভাগের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা বকেয়া নেই এবং সেবির জরিমানাও পরিশোধ করা হয়েছে। তবে আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে যে, সরকারি কোষাগারে শতকোটি টাকার বেশি ক্ষতির এই অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ আর্থিক তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।