নোবেল জয়ের পরপরই ট্রাম্পের বড় ধাক্কা! আন্তর্জাতিক আদালতের ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি আমেরিকার

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) প্রাক্তন বিচারপতি ৮৫ বছর বয়সি নভি পিল্লাই। কিন্তু এই ঐতিহাসিক ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক চরম সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ওয়াশিংটন প্রশাসন সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপে বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে গভীর কূটনৈতিক সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত। তাঁর দাবি, মার্কিন নাগরিকদের ওপর ICC-র বিচারপ্রক্রিয়া কোনওভাবেই বরদাস্ত করবেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আদালতের সাথে আর্থিক লেনদেন বন্ধ করা এবং এর প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়াই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের ভূমিকা এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ICC-র গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন।
আমেরিকার এই আগ্রাসী পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ওপর এক মারাত্মক আঘাত। আদালতের ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামিম খান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বা বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে ICC-র কাজ থামানো যাবে না। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশনীতি প্রধান কাজা কালাস ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আদালতের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। নোবেলজয়ী বিচারক নভি পিল্লাইয়ের এই আন্তর্জাতিক সম্মান ও তার পরপরই আমেরিকার কঠোর অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিকে এক নতুন মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।