আজ শনিশ্চরি অমাবস্যায় মহাসংযোগ! পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটিয়ে কাল থেকেই শুরু হচ্ছে দেবীর আরাধনা

আজ শনিবার অত্যন্ত পবিত্র ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্যপূর্ণ সর্বপিত্রি অমাবস্যা। হিন্দু ধর্মে পিতৃপক্ষকে নিজেদের दिवंगत পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা, স্মরণ ও অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক বিশেষ পবিত্র সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহা লয়া অমাবস্যা, পিতৃ বিসর্জনি অমাবস্যা এবং সর্বপিত্রি মোক্ষ অমাবস্যা নামে পরিচিত এই বিশেষ তিথিতে আজ সমগ্র দেশজুড়ে চলছে পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ ও पिंडदान।
পণ্ডিতদের মতে, সর্বপিত্রি অমাবস্যার সবচেয়ে বড় মাহাত্ম্য হলো—এই দিনে এমন সমস্ত অজ্ঞাত বা অপ্রকাশিত পিতৃপুরুষদেরও শ্রদ্ধা ও তর্পণ করা যায়, যাদের মৃত্যুর নির্দিষ্ট তিথি পরিবারের কারোরই জানা থাকে না কিংবা ব্যস্ততার কারণে নির্দিষ্ট দিনে যাঁদের স্মরণ করা সম্ভব হয়নি। আজ ১০ অক্টোবর পিতৃপক্ষের সফল সমাপ্তি ঘটছে এবং ঠিক এর পরের দিন অর্থাৎ ১১ অক্টোবর রবিবার থেকেই মহাসমারোহে শুরু হতে চলেছে শারদীয়া দুর্গোৎসব ও দেবীর আরাধনা। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিটি পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ বা সন্ধিক্ষণ হিসেবে পরিগণিত হয়। চলতি বছরে এই অমাবস্যা শনিবার পড়ার কারণে এটি ‘শনिश्चरी অমাবস্যা’ (Shanischari Amavasya) নামেও বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে।
শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা ও গণনা অনুযায়ী, আश्विन कृष्ण अमावस्या বা সর্বপিত্রি অমাবস্যার তিথি শুরু হয়েছে গত ৯ অক্টোবর রাত প্রায় ৯:৩৫ মিনিটে এবং এর সমাপ্তি ঘটবে আজ, ১০ অক্টোবর রাত প্রায় ৯:১৯ মিনিটে। সনাতন সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনটিতে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ, দান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করলে মানুষের সমস্ত পিতৃঋণ থেকে মুক্তি মেলে এবং পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
পূজা ও তর্পণের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, এদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাতঃস্নান সেরে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ বস্ত্র পরিধান করতে হবে। এরপর পবিত্র মনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তর্পণের কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এই বিশেষ দিনে জল, কালো তিল এবং পবিত্র কুশের সাহায্যে তর্পণ করার চিরায়ত প্রথা রয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণ বা কোনো অভাবী ও দরিদ্র ব্যক্তিকে অন্ন, বস্ত্র ও ফলমূল দান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক। এছাড়া ভারতীয় সংস্কৃতির মূল সুর বজায় রেখে গরু, কাক এবং কুকুরকে ভোজন করানোর মাধ্যমে জীবজগতের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।
পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, মহাভারতের দানবীর কর্ণের জীবনের একটি বিশেষ ঘটনার সঙ্গে এই পিতৃপক্ষের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। কথিত আছে, মৃত্যুর পর কর্ণ যখন পিতৃলোকে পৌঁছান, তখন তাঁকে খাবারের পরিবর্তে সোনা ও হীরা দেওয়া হয়েছিল। তখন কর্ণ এর কারণ জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয় যে, তিনি জীবদ্দশায় সোনা-রুদ্র দান করলেও নিজের পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে কখনো অন্নদান বা শ্রাদ্ধ করেননি। পরবর্তীতে এই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই পৃথিবীতে এই শ্রাদ্ধ ও তর্পণের প্রথা জোরালোভাবে প্রচলিত হয়। এই সার্বিক উপাখ্যানের মূল বার্তা হলো, জাগতিক ধনসম্পদের পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও अन्नदान-ই হলো প্রকৃত মানবতা। সর্বপিত্রি অমাবস্যার এই পবিত্র সমাপ্তির পরই মাতৃশক্তির আরাধনায় মুখরিত হতে চলেছে গোটা দেশ।