বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সরগরম রাজ্যের রাজনীতি। আর এই উত্তাপের মাঝেই কলকাতায় বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার শহরের অন্তত ৭টি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। এই অভিযানের কেন্দ্রে রয়েছে বিখ্যাত রিয়েল এস্টেট সংস্থা মার্লিন প্রজেক্টস লিমিটেড। ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’ (PMLA)-এর অধীনে চলা একটি তদন্তের সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
🔍 ইডির স্ক্যানারে মার্লিন গ্রুপ ও মোহতা পরিবার
ইডি সূত্রে খবর, এই তদন্তের মূল লক্ষ্য মার্লিন গোষ্ঠীর প্রোমোটার সুশীল মোহতা এবং সাকেত মোহতা। অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা এবং তাঁদের সহযোগীরা জাল নথি তৈরি করে জমির মালিকানা সংক্রান্ত এক বিশাল প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি:
জাল কাগজের মাধ্যমে বহু সরকারি ও বেসরকারি জমি বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছে।
নিজেদের বৈধ মালিক সাজিয়ে সেই বিতর্কিত জমিতেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বড় বড় রিয়েল এস্টেট প্রকল্প।
ভুয়ো নথি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করানো হয়েছে।
⚠️ দুশ্চিন্তায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা
অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয়। বহু মানুষ তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে ফ্ল্যাট বা প্লট বুক করেছিলেন মার্লিন গ্রুপের প্রকল্পে। কিন্তু তদন্তে জানা গেছে, এই প্রকল্পগুলোর অনেকগুলিই এখনও অসম্পূর্ণ এবং আইনি জটিলতায় ঘেরা। ইডি-র এই অভিযানের পর তাঁদের বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে প্রবল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
💼 উদ্ধার হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিভাইস
তল্লাশি অভিযানে ইডি আধিকারিকরা সংস্থার অফিস এবং প্রোমোটারদের বাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণে জমির কাগজপত্র, ব্যাঙ্কের লেনদেন সংক্রান্ত নথি এবং ল্যাপটপ-মোবাইলের মতো ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করেছেন। টাকার উৎস এবং এই আর্থিক তছরুপের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
⚖️ নেপথ্যে কি বড় রাজনৈতিক যোগ?
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতাদের যোগসাজশ থাকার ইঙ্গিত মিলছে সূত্র মারফত। ইডি-র একটি সূত্রের দাবি, তদন্তে মার্লিন গোষ্ঠীর সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি আধিকারিকদের যোগসূত্রের প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম প্রকাশ্যে আনেনি।
🗳️ ভোটের অংকে নয়া সমীকরণ
রাজ্যে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগেই এই ইডি অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই নিয়ে এখনও শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, বিরোধীরা সরব হয়েছেন। ভোটের আগে এই দুর্নীতি ইস্যু যে বিরোধী শিবিরের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





