ভোটের মুখে নাগরিক স্বস্তি, বাইপাস সংলগ্ন ও পূর্ব কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফেব্রুয়ারিতেই পৌঁছবে পরিশ্রুত পানীয় জল

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরিক পরিষেবা প্রদানে তৎপরতা শুরু করেছে কলকাতা পৌর কর্পোরেশন (KMC)। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই বাইপাস সংলগ্ন এবং দক্ষিণ ও পূর্ব কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দুয়ারে পৌঁছে দিতে হবে পরিস্রুত পানীয় জল।

প্রকল্পের বিবরণ ও সুবিধাভোগী এলাকা

বর্তমানে ধাপায় অবস্থিত ‘জয় হিন্দ জল প্রকল্প’-এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ মিলিয়ন গ্যালন পরিস্রুত পানীয় জল উৎপাদিত হচ্ছে। তবে কসবা, টালিগঞ্জ, ওয়েট ল্যান্ড এলাকা, ট্যাংরা, তোপসিয়া এবং সায়েন্স সিটির বিস্তীর্ণ এলাকার লক্ষাধিক মানুষ এখনও পর্যন্ত গভীর নলকূপের জলের উপর নির্ভরশীল।

  • লক্ষ্য: এই সংকট মেটাতে কয়েক বছর আগেই অতিরিক্ত ২০ মিলিয়ন গ্যালন পরিস্রুত পানীয় জল উৎপাদনের কাঠামো তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

  • বিলম্ব: জল সরবরাহ বিভাগের গড়িমসির জেরে বছর দেড়েক আগে কাজটির ভার কলকাতা কর্পোরেশন টাউন প্লানিং বিভাগের হাতে দেওয়া হয়।

ভোটের অঙ্ক ও পৌর তৎপরতা

বর্তমানে রাজ্যে এসআইআর পর্ব চলছে, যা মিটলেই বিধানসভা ভোটের দামামা বাজার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের এই অঙ্ক মাথায় রেখেই পৌর কর্তৃপক্ষ বকেয়া কাজ ঝালিয়ে নিচ্ছে, যাতে পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও ক্ষোভ নাগরিক মহলে না জমে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেই ধাপার এই গুরুত্বপূর্ণ জল প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে টাউন প্লানিং বিভাগ।

কাজের বর্তমান অবস্থা ও ডেডলাইন

সম্প্রতি মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে ঘুরে দেখেন জয় হিন্দ জল প্রকল্প স্থল।

  • শেষের মুখে কাজ: জানা গিয়েছে, এই জল প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ। জল শোধন প্রক্রিয়ার যন্ত্র, পাম্প বসানো এবং স্টোর নির্মাণ—সবটাই সম্পন্ন হয়েছে। জলের শেষ মুহূর্তের পরিশোধন কাজটুকু এখন বাকি।

  • সময়সীমা: বাকি থাকা ৫-৭ শতাংশ কাজ শেষ করতে আরও মাস দুয়েক সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • আধিকারিকের আশ্বাস: কলকাতা কর্পোরেশনের আধিকারিকরা আশা করছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করে এই অতিরিক্ত ২০ মিলিয়ন গ্যালন জল পরিশোধন কেন্দ্রটি চালু করে দেওয়া যাবে।

এই প্রকল্প চালু হলে কয়েক লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবেন এবং মাটির তলার জলের উপর নির্ভরতা থেকে মুক্তি পাবেন।