অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন কড়া পথে হাঁটল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে কড়া নজরদারি শুরু হলেও, এবার সরাসরি গ্রেফতারির নির্দেশ দিল কমিশন। সাফ জানানো হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পুরনো বা নতুন কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা (Warrant) ঝুলে রয়েছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
কমিশনের কড়া দাওয়াই: শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনো ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে দেওয়া নির্দেশে বলা হয়েছে:
যাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় পরোয়ানা রয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।
কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কাছে নতিস্বীকার করা যাবে না।
থানাওয়ারি পেন্ডিং ওয়ারেন্টের তালিকা তৈরি করে প্রতিদিনের অ্যাকশন রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটের সময় অনেক ক্ষেত্রেই সমাজবিরোধীরা এবং অভিযুক্ত অপরাধীরা ময়দানে নেমে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে। অনেক সময় দেখা যায়, বহু অপরাধী গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়িয়ে দিব্যি রাজনৈতিক মিছিলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই কমিশন এবার সরাসরি ধরপাকড়ের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা রুখতে এবার জেলাস্তরের আধিকারিকদেরও জবাবদিহি করতে হবে।
প্রশাসনের তৎপরতা: কমিশনের এই নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো অপরাধের রেকর্ড আছে বা যারা আদালত থেকে পলাতক, তাদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। ভোটের আগে এই ধরপাকড় অভিযানের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরমহলেও তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা।
পরিণতি কী? নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোট করানোর চেষ্টা অনেকটাই কমবে। তবে বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, এই নির্দেশের অপব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে হয়রানি করা হবে না তো? যদিও কমিশন স্পষ্ট করেছে, স্বচ্ছতা বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ভোটের উত্তাপে এই ‘ওয়ারেন্ট অভিযান’ কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। তবে কমিশনের এই ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ যে অপরাধী মহলে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে, তা নিশ্চিত।





