বাংলার মসনদ দখলের লড়াই এবার পৌঁছে গেল সুরাতের হিরে আর বস্ত্রশিল্পের অন্দরে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভিনরাজ্যে কর্মরত বাঙালি ভোটারদের ঘরে ফেরাতে কোমর বেঁধে নামল বিজেপি। সূত্রের খবর, গুজরাতের সুরাত থেকে প্রায় ৫,০০০ বাঙালি ভোটারকে বাংলায় ফেরানোর জন্য ৪টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভোটের মুখে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।
কেন হঠাৎ সুরাত?
গুজরাতের সুরাতে প্রায় আড়াই লক্ষ বাঙালির বাস। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, মেদিনীপুর ও সুন্দরবন অঞ্চলের শ্রমিকরা সেখানে সোনা-হিরে ও টেক্সটাইল শিল্পে কাজ করেন। ‘সুরাত বেঙ্গলি সমাজ’-এর সহায়তায় বিজেপি এই শ্রমিকদের মধ্যে যারা দলের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাঁদের চিহ্নিত করে বাংলায় ভোট দিতে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।
সংগঠনের সদস্য বাসুদেব অধিকারীর কথায়,
“আমরা গুজরাতে বিজেপির আনা পরিবর্তন দেখেছি। এবার আমাদের নিজের রাজ্যেও ঠিক তেমনই বদল চাই।”
ট্রেন বিভ্রাট ও বিশেষ সূচি
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুটি ট্রেন ১৮ এপ্রিল সুরাত থেকে রওনা দেবে। বাকি দুটি ট্রেন ছাড়বে ২৪ এপ্রিল। বাংলার ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটের কথা মাথায় রেখেই এই নির্ঘণ্ট সাজানো হয়েছে। ‘পোরবন্দর-শালিমার’ বা ‘কবিগুরু এক্সপ্রেস’-এর মতো ট্রেনগুলোতে ইতিমধ্যেই আসন সংরক্ষণের কাজ শেষ পর্যায়ে বলে দাবি করা হয়েছে।
তৃণমূলের পাল্টা চাল: ‘ডাবল ভোটার’ তত্ত্ব
বিজেপির এই তৎপরতাকে মোটেও ভালো চোখে দেখছে না শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) কারচুপি করা হচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, অনেক ব্যক্তির বিহার ও বাংলা— দুই রাজ্যেরই ভোটার কার্ড রয়েছে। এমনকি ভিনরাজ্যের ভোটারদের বেআইনিভাবে তালিকায় ঢোকানোর অভিযোগ তুলে প্রায় ১,৫০০ আবেদনকারীর নথি খতিয়ে দেখে তা খারিজও করা হয়েছে।
ভোটের অংকে সুরাত কানেকশন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শ্রমিকরা শুধু নিজেরা ভোট দেবেন না, বরং গ্রামে ফিরে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও প্রভাব ফেলবেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা বা মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে যেখানে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি, সেখানে সুরাত-ফেরত এই শ্রমিকরাই বিজেপির তুরুপের তাস হতে পারে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
এখন দেখার, সুরাত থেকে আসা এই ‘বিশেষ’ ট্রেনের যাত্রীরা বাংলার নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন। ৪ মে-র ফল ঘোষণাই দেবে সেই উত্তর।





