পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা ভোটের প্রথম দফা মিটলেও অশান্তির আগুন নেভার লক্ষণ নেই। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হামলা, ভাঙচুর এবং মারধরের খবর আসছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—হিংসার একই চিত্র। কোথাও আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, তো কোথাও বিজেপি কর্মীদের ওপর চলছে রড দিয়ে আক্রমণ।
উত্তপ্ত দেগঙ্গা ও নৌশাদের ওপর হামলা:
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে দেগঙ্গা। শনিবার রাতে নৌশাদ সিদ্দিকির রোড শো শেষ হওয়ার পর আইএসএফ কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, খোদ নৌশাদ সিদ্দিকিও এই আক্রমণের মুখে পড়েন। প্রতিবাদে টায়ার জ্বালিয়ে বেড়াচাঁপা-হাড়োয়া রাস্তা অবরোধ করেন আইএসএফ কর্মীরা। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল।
হলদিয়া ও কোচবিহারে বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণ:
হলদিয়ায় বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, গেরুয়া শিবিরের পতাকা টাঙানোর অপরাধে তাঁদের কর্মীদের মারধর করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম হয়ে একজন হাসপাতালে ভর্তি। অন্যদিকে, কোচবিহারের নাটাবাড়িতে এক বিজেপি নেতার দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘক্ষণ দোকান বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়ার পর এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি বিজেপির। ঘটনাস্থলে দমকল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রামপুরহাটে অ্যাম্বুল্যান্সে ভাঙচুর:
বীরভূমের রামপুরহাটে এক প্রাক্তন বিজেপি বুথ সভাপতিকে রড দিয়ে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাম্বুল্যান্সে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। শুক্রবার রাতে হঠাৎ লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এমনকি ওই কর্মীর বাড়িতে ইটবৃষ্টি এবং অ্যাম্বুল্যান্সে আগুন দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ভোটের বাংলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





