২০২৬-এর নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝেই এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা। রবিবার বিকেলে একটি বাজি কারখানায় ঘটা এই প্রলয়ঙ্কারী বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার ভয়াবহতা: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বিকেল নাগাদ হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। বাজি কারখানাটির চারটি ঘর মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে মৃতদেহগুলি দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। ঘরগুলোর ছাদ উড়ে গিয়ে কয়েকশ মিটার দূরে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি:
দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী: খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের নির্দেশ: কারখানাটির লাইসেন্স ছিল কি না এবং ভোটের মুখে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত করার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: ভোটের ঠিক মুখেই এই ধরণের বড় বিস্ফোরণ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “ভোটের কাজে ব্যবহার করার জন্য অবৈধভাবে বোমা তৈরি হচ্ছিল।” অন্যদিকে, শাসক দলের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে একটি ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এবং মৃতদের পরিবারকে সব ধরণের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার: বারবার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও কেন প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে এই মরণফাঁদগুলো চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় মানুষ। এই ঘটনা নির্বাচনী আবহে নিরাপত্তার বড়সড় গলদকেই সামনে নিয়ে এল।





