ভোটার লিস্ট থেকে উধাও ১২০ জন মহিলার নাম! মমতার আশঙ্কাই কি সত্যি হচ্ছে?

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কাই কি তবে বাস্তব হতে চলেছে? নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার সীমান্তবর্তী গেদে গ্রামে ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে।

ঠিক কী ঘটেছে গেদে গ্রামে?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হাতে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন গেদে গ্রামে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই গ্রামের ১৭ এবং ১৯ নম্বর বুথের মোট ১৩০ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ১৩০ জনের মধ্যে ১২০ জনই মহিলা, যাঁদের অধিকাংশই পেশায় গৃহবধূ।

সব নথি দিয়েও কেন এই পরিণতি?

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই তাঁরা যথাযথভাবে ‘প্রোজেনি ম্যাপিং’ বা পারিবারিক বংশলতিকার সংযোগ দেখিয়েছিলেন। শুনানির সময় তাঁদের কাছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট এবং জাতিগত শংসাপত্র চাওয়া হয়েছিল। সমস্ত বৈধ নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম নেই দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা।

গ্রামবাসীদের প্রধান অভিযোগগুলি হলো:

  • পরিবারের পুরুষ সদস্যদের নাম থাকলেও মহিলাদের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হয়েছে।

  • শুনানিতে সব তথ্য দিলেও কেন নাম বাদ গেল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

  • কমিশনের নিয়ম মেনে বাবার নামের সঙ্গে লিঙ্কিং করার পরেও ব্রাত্য রাখা হয়েছে তাঁদের।

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বাংলার মহিলারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবথেকে বড় শক্তি। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্পের সুবিধাভোগী এই মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে যাতে নির্বাচনে বিজেপি সুবিধা পায়। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মহিলারা।

বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাতিলের এই ঘটনা কি নিছকই যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চক্রান্ত? তদন্তের দাবিতে সরব সীমান্ত লাগোয়া এই জনপদ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy