ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় ফারাক, প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের অস্বাভাবিক হার নিয়ে উদ্বেগ, নড়েচড়ে বসলেন রাজ্যের CEO

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দফতরে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) শেষ মুহূর্তের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফর্ম ফিলআপ ও সংগ্রহের শেষ দিন ছিল ১১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। ডিজিটাইজ়েশন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হলেও, ‘সেল্ফ ম্যাপিং’ এবং ‘প্রোজেনি ম্যাপিং’-এর হারে বড় বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এই ফারাক সবচেয়ে বেশি প্রকট।

কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে মোট ‘প্রোজেনি ম্যাপিং’ হয়েছে ৫০.২২ শতাংশ (৩৮,৪৮,৫১৬৬ জন)। অন্যদিকে, ‘সেল্ফ ম্যাপিং’ হয়েছে মাত্র ৩৮.৩ শতাংশ (২৯,৩৫,২৮৯৩ জন)। এই বৈষম্যের কারণ খতিয়ে দেখতে রাজ্যের CEO মনোজকুমার আগরওয়াল ইতিমধ্যেই নতুন স্পেশাল রোল অবজ়ারভারদের বিশেষভাবে নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

‘প্রোজেনি ম্যাপিং’ প্রক্রিয়ায় একজন ভোটারকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজের বা বাবা-মায়ের লিঙ্কেজ দেখাতে না পারলে, দাদা-দাদি বা ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে সেই লিঙ্কেজ দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

কমিশনের একাংশের মতে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে প্রোজেনি ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়লে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনাকে উস্কে দিতে পারে। এছাড়াও, পিতা-পুত্র বা প্রপিতামহের বয়সের মধ্যেকার যৌক্তিক বৈষম্য নিয়েও কমিশনের মাথাব্যথা রয়েছে।

‘নো-ম্যাপিং’ অর্থাৎ যাদের লিঙ্কেজ প্রমাণ করা যায়নি, সেই তালিকায় রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। কলকাতার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের নো-ম্যাপিংয়ের চিত্রটি নিম্নরূপ:

রাসবিহারী: ১৩%

ভবানীপুর: ১২%

কলকাতা বন্দর: ১১%

বালিগঞ্জ: ১০%

এছাড়াও, শুধু জোড়াসাঁকো কেন্দ্রেই নিখোঁজ, মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার বলে জানাচ্ছে কমিশন। জেলা স্তরে উত্তর ২৪ পরগনায় নো-ম্যাপিংয়ের হার ৮.৫% এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩.২%।

এসআইআর-এর প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার পর রাজ্যে মোট ৫৭,৫২,২০৭টি ‘Uncollectable Form’ (ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি) পাওয়া গেছে। এই ফর্মগুলির শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী:

মৃত ভোটার: ২৪,১৪,৭৫০

নিখোঁজ ভোটার: ১১,৫৭,৮৮৯

ডুপ্লিকেট ভোটার: ১,৩৫,৬২৭

স্থানান্তরিত ভোটার: ১৯,৮৯,৯১৪

অন্যান্য: ৫৪,০২৭