ভোটার তালিকা নিয়ে তুলকালাম! সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি অনাস্থা প্রস্তাব আনছে বিরোধীরা

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের আবহে বুধবার দিল্লির দরবারে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসল বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা এবং দেশজুড়ে এক যৌথ গণআন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করাই ছিল এই শীর্ষ বৈঠকের মূল এজেন্ডা।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে উপস্থিত থেকে সুর চড়ান। এছাড়া সমাজবাদী পার্টির দুই সাংসদ হরেন্দ্র মালিক ও মৌলানা মহিবুল্লাহ নদভি (অখিলেশ যাদবের প্রতিনিধি হিসেবে), তেজস্বী যাদব (আরজেডি), ওমর আবদুল্লা (জেকেএনসি), মেহবুবা মুফতি (পিডিপি), হেমন্ত সোরেন (জেএমএম), উদ্ধব ঠাকরে (শিবসেনা-ইউবিটি), সুপ্রিয়া সুলে (এনসিপি-এসপি), সিপিআইএম নেতা এম এ বেবি এবং বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সাংসদ কপিল সিব্বলসহ একাধিক হেভিওয়েট নেতা বৈঠকে অংশ নেন।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সাম্প্রতিক প্রস্তাবের পরই মূলত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, গত ১২ বছর ধরে বিজেপি সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে চলেছে এবং নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের পুতুলে পরিণত করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন বিরোধীরা।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের স্বার্থে বিরোধী জোট মূলত পাঁচটি প্রধান দাবি সামনে এনেছে: প্রথমত, ভোটার তালিকায় যাবতীয় সংযোজন ও ছাঁটাইয়ের সমস্ত ডেটা অবিলম্বে জনসমক্ষে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে আইনি পুনর্বিবেচনা ও আপিলের সুযোগ দিতে হবে। তৃতীয়ত, সমস্ত রাজনৈতিক দলকে সময়মতো সহজ ফর্ম্যাটে সংশোধিত ভোটার তালিকা হস্তান্তর করতে হবে। চতুর্থত, যে সমস্ত কেন্দ্রে বড় মাপের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। পঞ্চমহত, সাধারণ মানুষের মনের আশঙ্কা দূর করতে কমিশনকে পুরোপুরি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে হবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ এক বাক্যে খারিজ করে দিয়েছে। কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো, মৃত বা ঠিকানা বদল করা ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা নির্ভুল করাই এসআইআর প্রক্রিয়ার একমাত্র লক্ষ্য। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, অথচ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে কমিশন। তবে শাসক শিবিরের এই সাফাই মানতে নারাজ বিরোধীরা। নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে সংসদের অন্দরে ও রাজপথে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন জোটের নেতারা।