বক্স অফিসে কোটি কোটি টাকার লোকসান আর অবসাদ! বলিউডের যে অভিশপ্ত নাম শুনলেই ভয়ে কাঁপে প্রযোজকরা

বলিউডে ছবির নাম বাছার ক্ষেত্রে কুসংস্কার, সংখ্যাতত্ত্ব কিংবা বিশেষ অক্ষরের প্রতি নির্মাতাদের দুর্বলতা নতুন কোনো বিষয় নয়। কোনো একটি নাম হিট হলে সেই ফর্মুলা বারবার ব্যবহারের ইতিহাসও বহু পুরনো। কিন্তু কোনো একটি নির্দিষ্ট শব্দ যদি বারবার ছবির শিরোনামে ব্যবহৃত হয় এবং প্রতিবারই বক্স অফিসে শোচনীয়ভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে, তবে তাকে নিছক কাকতালীয় বলা কঠিন। হিন্দি সিনেমার দীর্ঘ ইতিহাসে এমনই এক অদ্ভুত ও রহস্যজনক অভিশাপ জড়িয়ে রয়েছে ‘কর্জ’ শব্দটিকে ঘিরে।

‘কর্জ’ শব্দটির অর্থ ঋণ বা দেনা। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সম্পূর্ণ নাম হিসেবে এই একটি শব্দকে ব্যবহার করে মোট তিনটি ছবি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, আরও ছ’টি ছবির নামের অংশ হিসেবেও এটি এসেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মোট নয়টি ছবির একটিও বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখেনি। উল্টে বেশ কয়েকটি ছবির চরম ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট তারকা ও প্রযোজকদের কেরিয়ারে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল।

এই তালিকার সূত্রপাত হয় ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুভাষ ঘাইয়ের ‘কর্জ’ দিয়ে। ঋষি কাপুর, টিনা মুনিম অভিনীত পুনর্জন্ম ও প্রতিশোধের কাহিনীর এই ছবি আজ কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা পেলেও, মুক্তির সময় বক্স অফিসে মাত্র ৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল এবং চরম প্রত্যাশাভঙ্গ ঘটিয়েছিল। ছবির এই ভরাডুবি ঋষি কাপুরকে গভীর অবসাদে ঠেলে দিয়েছিল। এরপর ২০০২ সালে হ্যারি বাওয়েজার ‘কর্জ: দ্য বার্ডেন অফ ট্রুথ’ এবং ২০০৮ সালে হিমেশ রেশমিয়ার ‘Karzzzz’ মুক্তি পেলেও একই পরিণতির মুখোমুখি হয়। ২৪ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি হিমেশের ছবিটি মাত্র ১৬ কোটি টাকা আয় করায় প্রযোজকরা আর্থিক সংকটের মুখে পড়েন। এমনকী এই ছবির ব্যর্থতার জেরে অভিনেত্রী উর্মিলা মাতন্ডকর ও নবাগতা শ্বেতা কুমারের কেরিয়ারও প্রায় থমকে যায়।

শুধু এই তিনটি ছবিই নয়, ১৯৮৮ সালের ‘কর্জ তেরে খুন কা’, ১৯৯০ সালের ‘দুধ কা কর্জ’ ও ‘পেয়ার কা কর্জ’, ১৯৯১ সালের ‘কর্জ চুকানা হ্যায়’ ও ‘মহান কর্জ’ এবং ২০১৬ সালের ‘দুধ কা কর্জ’—এই ছ’টি ছবির কোনোটিই ভারতীয় বক্স অফিসে ৫ কোটি টাকার গণ্ডি পার করতে পারেনি। চার দশকের ব্যবধানে বিভিন্ন সময়ে এই একটিমাত্র শব্দকে ঘিরে তৈরি সমস্ত ছবিই বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে। সময়ের সঙ্গে হিন্দি ছবির শিরোনামে উর্দু শব্দের ব্যবহার কমলেও, ‘কর্জ’-এর এই ৯টি ব্যর্থতার ইতিহাস আজও বলিউডের সবচেয়ে বড় অলক্ষ্মী ও রহস্যজনক অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।