‘একমাত্র সৃজিত ছাড়া কেউ হারাতে পারেনি!’ দাদাগিরির সেটে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোন গোপন স্মৃতি শেয়ার করলেন দেব?

টলিউডের জনপ্রিয় এবং অত্যন্ত গুণী অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আজ আমাদের মধ্যে না থাকলেও, তাঁর স্মৃতি আজও অমলিন। সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে জীবন্ত হয়ে উঠলেন প্রয়াত অভিনেতা। দাদাগিরির ইতিহাসে রাহুল এক অনন্য নজির গড়েছিলেন। তাঁর তুখোড় বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ সাধারণ জ্ঞানের সুবাদে তিনি যতবারই এই শোয়ে অংশ নিয়েছিলেন, প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছিলেন। টলিউডের এই মেধাবী অভিনেতাকে মাত্র একবারই দাদাগিরির মঞ্চে হারাতে পেরেছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

এবারের দাদাগিরির মঞ্চে সেই সৃজিত মুখোপাধ্যায় উপস্থিত থাকায় পুরনো সেই স্মৃতি ফিরে আসে। বিশেষভাবে নজর কাড়ে সৃজিতের পোশাক, কারণ তিনি গায়ে চাপিয়েছিলেন খোদ রাহুলেরই একটি শার্ট! শোয়ের বিশেষ পর্বে অভিনেতা দেব এবং পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় প্রয়াত রাহুলকে নিয়ে তাঁদের বহু অজানা স্মৃতি ভাগ করে নেন, যা গোটা মঞ্চকে এক আবেগঘন পরিস্থিতিতে পরিণত করে। দেব ও সৃজিতের মুখে রাহুলের বুদ্ধিমত্তা এবং প্রতিভার কথা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শক থেকে শুরু করে সঞ্চলকও।

উল্লেখ্য, গত ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারি সমুদ্রসৈকতে একটি বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সমুদ্রের শক্তিশালী জলের স্রোতে তলিয়ে গিয়ে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে আকস্মিক মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ইউনিটের সদস্যরা তাঁকে জল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই অকালমৃত্যু শুধু টলিউড ইন্ডাস্ট্রিকেই স্তম্ভিত করে দেয়নি, বরং বাংলা বিনোদন জগতে শুটিং সেটে কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছিল। প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও পরিবার এই ঘটনার পর উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানান এবং আইনি লড়াই শুরু করেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে একাই তাঁদের একমাত্র ছেলে সহজকে আগলে ধরে কঠিন লড়াই চালাতে হচ্ছে। সম্প্রতি প্রিয়াঙ্কা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রাহুলের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও কৃতিতে গড়ে ওঠা শো ‘সহজ পাঠ’ আর আগের মতো চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, রাহুলের যে বিশাল পড়াশোনা, পাণ্ডিত্য এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার যে মুন্সিয়ানা ছিল, তা অন্য কারও পক্ষে ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন। আজ দাদাগিরির মঞ্চে রাহুলের এই স্মরণ ও সহকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রমাণ করল যে, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সৃষ্টি ও স্মৃতির মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।