উত্তরপ্রদেশে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বড় ধরনের কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের তদন্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এক কোটিরও বেশি সন্দেহজনক ভোটারের সন্ধান মিলেছে। এই ভোটারদের নাম, ঠিকানা, লিঙ্গ এবং বয়সের মধ্যে অস্বাভাবিক মিল রয়েছে, যা তাদের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
ভুয়া ভোটার চিহ্নিতকরণে এআই
রাজ্য নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকা যাচাইয়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এই এআই-চালিত অডিট সিস্টেমে সন্দেহজনক ভোটারদের একটি বিশাল তালিকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রিপোর্টের পর, কমিশন এখন কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে। বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং ভুয়ো ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেন।
নির্বাচন কমিশনারের বড় ঘোষণা
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজ প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (facial identification) এবং এআই প্রযুক্তি এখন থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে। তিনি বলেন, বিশেষ করে সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রে ভুয়ো ভোটার শনাক্ত করতে এআই-ভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন চিহ্নিত সমস্ত ভোটারের সশরীরে যাচাইকরণ নিশ্চিত করেন এবং ভুয়ো নাম সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেন।
এই পদক্ষেপগুলো রাজ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে জানিয়েছে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন রাহুল গান্ধী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।