ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের মাঝে বড় স্বস্তি। রাজ্যের যে বিশাল সংখ্যক ভোটারের তথ্যগত অমিল বা ‘আনম্যাপড’ (Unmapped) তকমা রয়েছে, তাঁদের জন্য শেষ সুযোগের দরজা খুলে দিল নির্বাচন কমিশন। আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ যদি ২০০২ সালের ভোটার লিস্টের প্রমাণ দিতে না পেরে থাকেন, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কীভাবে মিলবে সুযোগ? জানুন সহজ পদ্ধতি
কমিশন সূত্রে খবর, এবার আর শুধু শুনানিতে নয়, সরাসরি ‘ফিল্ড এনকোয়ারি’ (Field Enquiry) হবে। কীভাবে কাজ করবে এই প্রক্রিয়া?
নির্দিষ্ট ফরম্যাট: প্রতিটি আনম্যাপড ভোটারের জন্য একটি বিশেষ ফরম্যাট থাকবে।
সাক্ষী প্রয়োজন: ওই ফরম্যাটে এলাকার অন্তত ৫ জন বৈধ ভোটারকে সই করে গ্যারান্টি দিতে হবে।
যাচাই প্রক্রিয়া: এরপর বিএলও (BLO), সুপারভাইজার এবং ইআরও (ERO) ওই তথ্য যাচাই করে স্বাক্ষর করলেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠে যাবে।
SIR ও ফাইনাল লিস্টের নতুন সময়সীমা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ভোটার তালিকা প্রকাশের সূচিতে বদল আনা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারির বদলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
মনে রাখবেন: প্রথম পর্যায়ে ১.৩৬ কোটি ভোটারের তথ্যে গরমিল মিললেও, বর্তমানে প্রায় ৯৪ লক্ষ মানুষের শুনানি ও যাচাইয়ের কাজ চলছে।
নাম বাদ গেলে কি নাগরিকত্ব চলে যাবে?
অনেকের মনেই এই আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। তবে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে— ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার সাথে নাগরিকত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মাত্র। তাই আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রাখুন।
বিঃদ্রঃ: ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর যদি দেখেন আপনার নাম নেই, তবে ঘাবড়াবেন না। তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি সহ পুনরায় আবেদন করার সুযোগ থাকছে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো মনে রাখুন:
২৮ ফেব্রুয়ারি: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ।
তালিকা পরবর্তী আবেদন: প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে।