ভোটার তালিকায় আধার বাধ্যতামূলক! সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কী বললেন মমতা? প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবার ভোটার তালিকায় আধার কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই রায়কে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক সভা থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন। যাদের এখনও আধার কার্ড নেই, তাদের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আমরা মেনে নিচ্ছি। তবে যাদের আধার কার্ড নেই, তাদের জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা করতে হবে। ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের আধার কার্ড করিয়ে দিতে হবে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “ভোটার তালিকায় নিয়মিত নজর রাখতে হবে, কারণ তালিকায় নাম না থাকলে ওরা (বিরোধীরা) এনআরসি করানোর সুযোগ খুঁজবে।” প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বার্তা শুধু জলপাইগুড়ির জন্য নয়, বরং রাজ্যের সব জেলা প্রশাসনের জন্যই প্রযোজ্য।

২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মমতা বলেন, “ইতিমধ্যেই এক দফা পরীক্ষা হয়েছে, রবিবার আরও একটি পরীক্ষা হবে। প্রায় ৩৫ হাজার শূন্যপদে পরীক্ষা চলছে এবং পরের ধাপে আরও ২১ হাজার নিয়োগ হবে।” বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করে তিনি বলেন, “যখনই আমরা চাকরি দিতে চাই, তখনই একদল কোর্টে গিয়ে বাধা দেয়। আমি তো চাকরি দিতে চাই, কিন্তু ওরা চাকরি খেতে চায়।”

সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বাংলার সম্মান রক্ষার প্রসঙ্গেও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “প্রতিদিন সামাজিক মাধ্যমে আমাকে অসম্মান করা হচ্ছে। আমি দায়িত্বে না থাকলে বাংলাকে লুটে নেওয়া হবে। বাংলাকে গুজরাটে পরিণত করতে দেওয়া হবে না।” দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলা চালাবে বাংলাই, দিল্লি নয়।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভিনরাজ্যে শ্রমিকদের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটলে রাজ্য সরকার তাদের পাশে থাকে এবং ইতিমধ্যেই ২৪ হাজার পরিবারকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এই প্রশাসনিক সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে ভোটার তালিকা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বাংলার আত্মমর্যাদা রক্ষার বিষয়ে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।