কাতারে ইজরায়েলের হামলা! বন্ধু নেতানিয়াহুর ওপর কেন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প?

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব কি কমছে? সম্প্রতি কাতারে হামাসের ওপর ইজরায়েলের বিমান হামলার ঘটনায় এই প্রশ্নই উঠে আসছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলার পর ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফোনে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন।
ট্রাম্প কেন ক্ষুব্ধ?
রিপোর্টটিতে দাবি করা হয়েছে যে কাতারের রাজধানী দোহায় ইজরায়েলের বিমান হামলার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে কাতারে হামলা চালানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি। এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, হামলার আগে কাতারকে সতর্ক করা হয়েছিল।
দোহাতে হামাস জঙ্গিনেতাকে লক্ষ্য করে ইজরায়েল এই হামলা চালায়। এই হামলার পরই নেতানিয়াহু একাধিকবার ট্রাম্পকে ফোন করেন। তখন ট্রাম্প তার মিত্র রাষ্ট্র কাতারে এই হামলার জন্য নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড়
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইজরায়েল তাদের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নয়। তেল আভিভ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যদি হামাস জঙ্গিদের কাতার থেকে না তাড়ানো হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
ইজরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই হামলার নিন্দা করে কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। একইভাবে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারও দোহায় ইজরায়েলের আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন। স্টারমার বলেছেন, মিত্ররাষ্ট্রের ওপর এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই শান্তির উদ্দেশ্যে নয়।
এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে কাতার মধ্যস্থতা করছিল, সেই সময়ই তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়। এই হামলাকে কাতার “দাদাগিরি” এবং “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে কটাক্ষ করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইজরায়েল তাদের এই বেপরোয়া পদক্ষেপের যোগ্য জবাব পাবে। কাতার ইতিমধ্যেই তাদের মিত্ররাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, কীভাবে ইজরায়েলকে এই হামলার জবাব দেওয়া যায়।