“ভোটারদের জন্য ‘ঢাল’ কেন্দ্রীয় বাহিনী!”-কোথাও ভয় দেখালে ৩টি নম্বরে ফোন করুন

আগামীকাল, ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন। উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রথম দফার রেশ কাটিয়ে এবার ভোট উৎসবে মাতবে খাস কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের ৭টি জেলার মোট ১৪২টি কেন্দ্র। আর এই দফায় শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটারদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে প্রকাশ করা হলো তিনটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর।

বিপদে পড়লে এই নম্বরগুলিতে ফোন করুন:

ভোট দিতে গিয়ে যদি দেখেন কেউ ভয় দেখাচ্ছে, অশান্তি করছে কিংবা বুথে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, তবে সরাসরি নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন:

  • হেল্পলাইন ১: ৮৪২০২৭২১০১

  • হেল্পলাইন ২: ৮৪২০২৭২৩৪৩

  • হেল্পলাইন ৩: ০৩৩-২৩৬৭১১১৭

ওয়েস্টবেঙ্গল সেক্টর ও রাজ্য ফোর্স কোঅর্ডিনেটর (সিআরপিএফ আইজি)-এর তরফে এই নম্বরগুলি চালু করা হয়েছে। কমিশনের আশ্বাস, ফোন পাওয়ামাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কুইক রেসপন্স টিম (QRT)।

রেকর্ড বাহিনী ও কড়া নজরদারি

দ্বিতীয় দফায় শুধু যে আসন সংখ্যা বেশি তাই নয়, সুরক্ষার কড়াকড়িও নজিরবিহীন। সূত্র মারফত খবর, এই দফায় মোতায়েন থাকছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। শহর কলকাতার অলিগলি থেকে শুরু করে জেলার স্পর্শকাতর বুথ—সবক্ষেত্রেই জওয়ানদের রুট মার্চ ও এরিয়া ডমিনেশন শুরু হয়ে গিয়েছে। বুথের ঠিক বাইরেই মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, যাতে কোনো রাজনৈতিক দল বা বহিরাগত পেশিশক্তি ভোটারদের প্রভাবিত করতে না পারে।

ছাপ্পা রুখতে কড়া আইনি দাওয়াই

নিছক বাহিনী মোতায়েনই নয়, এবার কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কমিশন। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে:

  • ভুয়া ভোট বা ছাপ্পা দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লে অভিযুক্তের সরাসরি ১ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

  • প্রতিটি বুথে বিশেষ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।

  • অশান্তির খবর পাওয়ামাত্রই কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে স্পেশাল ফোর্স।

গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হলেও ছোটখাটো যে অভিযোগগুলো উঠেছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই দ্বিতীয় দফায় নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে চাইছে প্রশাসন। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং স্বচ্ছন্দে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই বার্তাই দিতে চাইছে কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।